হেলমেটে হাঁটুর আঘাত: স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন ফ্যালকনসের তরুণ ড্যানিয়েলস
আমেরিকান ফুটবলের মাঠে ভয়ংকর এক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন দর্শকরা। আটলান্টা ফ্যালকনসের রুকি লাইনব্যাকার কেন্ডাল ড্যানিয়েলসকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের হাঁটুর সঙ্গে হেলমেটের সংঘর্ষের পর।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শিকাগো বিয়ার্সের বিপক্ষে ম্যাচে। ড্যানিয়েলস দৌড়ে গিয়ে বিয়ার্সের টাইট এন্ড কলস্টন লাভল্যান্ডকে ট্যাকল করতে গিয়েছিলেন। ট্যাকলটি তিনি সম্পন্নও করেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে তাঁর হেলমেট সরাসরি আঘাত করে লাভল্যান্ডের হাঁটুতে।
আঘাতের পরপরই ড্যানিয়েলস মাথা ঝাঁকান এবং যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন। মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসক দলের সদস্যরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ফ্যালকনসের পুরো সাইডলাইনই প্রিয় সতীর্থকে ঘিরে দাঁড়ায়; কেউ কেউ তখন প্রার্থনা করতেও শুরু করেন।
প্রেস বক্সে থাকা সাংবাদিকরা জানান, চিকিৎসকরা ড্যানিয়েলসের জার্সি কেটে ফেলেন। এরপর তাঁর শরীর স্থির করে তাঁকে গার্নিতে (স্ট্রেচার) তোলা হয়। ঘাড়ের সম্ভাব্য আঘাতের ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা বাধ্যতামূলক, কারণ সামান্য নড়াচড়াও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে স্বস্তির খবর, ড্যানিয়েলস সচেতন ছিলেন। সম্প্রচারে ধারাভাষ্যকার কেভিন বার্কহার্ট বলেন, ‘আপনারা দেখলেন তাঁর বাম হাত—আমরা হাতটি কয়েকবার নড়তে দেখেছি। তিনি সচেতন এবং তাঁকে সেরা চিকিৎসা দিতে সব সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ঠিক আছেন বলেই আশা করি।’
সাবেক তারকা টম ব্র্যাডিও সম্প্রচারে বলেন, সতীর্থদের জন্য এমন দৃশ্য দেখা কঠিন। তাঁর ভাষায়, সতীর্থরা ম্যাচের বাকি সময়টা ড্যানিয়েলসের জন্যই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ড্যানিয়েলসকে পরে গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয় আঘাতের অবস্থা পরীক্ষার জন্য। ঘাড়ের আঘাত কতটা গুরুতর, তা বিস্তারিত পরীক্ষার পরই জানা যাবে।
২০২৬ সালের এনএফএল ড্রাফটে ওকলাহোমা থেকে চতুর্থ রাউন্ডে ড্যানিয়েলসকে দলে নিয়েছিল ফ্যালকনস। রুকি মৌসুমেই তিনি নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছিলেন—প্রধান কোচ কেভিন স্টেফানস্কির ডিফেন্সে ছয়টি ম্যাচের সব কটিতেই তিনি ছিলেন স্টার্টার।
রবিবারের বিয়ার্স ম্যাচের আগে পাঁচ ম্যাচে ড্যানিয়েলসের ঝুলিতে ছিল মোট ২২টি সম্মিলিত ট্যাকল, একটি স্যাক ও একটি পাস ডিফেন্ড। তরুণ এই লাইনব্যাকারের এমন পারফরম্যান্সই বলে দেয়, দলে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
ম্যাচের বাকি অংশে সতীর্থদের মনোবল ধরে রাখাই এখন ফ্যালকনসের বড় চ্যালেঞ্জ। আর ভক্তদের চোখ এখন হাসপাতালের খবরের দিকে—তরুণ এই খেলোয়াড়ের পরবর্তী চিকিৎসা-আপডেটের অপেক্ষায় সবাই।





