জুয়ার আড্ডায় টাকা লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল, টুঙ্গিপাড়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিতর্ক
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম শেখের জুয়ার আড্ডায় টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
গত ১৭ অক্টোবর ‘খবর টুঙ্গিপাড়া’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে লুডু জুয়া খেলার টাকা লেনদেন নিয়ে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযুক্ত নিজাম শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি পাকুরতিয়া গ্রামের মৃত সরোয়ার শেখের ছেলে। জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ভিডিওতে নিজাম শেখকে বলতে শোনা যায়, ‘১০০ টাকা দেব কেন?’ পাশে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘তুমি হারছো, ২০০ টাকা দিবা। আমি চেয়ারম্যানের কাছে আগের পাব। আমি আর চেয়ারম্যান দুজনেই একসঙ্গে জুয়া খেলে হারছি।’
নিজাম শেখ পরে বলেন, ‘ছোটমোটর সঙ্গে এ জন্য খেলতে হয় না।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘সেদিন আমার লস ছিল, আমি টাকা দিতে পারব না।’ একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘যাও, তোমার ১০০ টাকা দেওয়া লাগবে না।’
নিজাম শেখ পরে বলেন, ‘সেদিন পাঁচ সিঙ্গেল খেলছি আড়াইশো করে। ও গেছে ঠকে, পরে তুই আর আমি খেলছি না।’ পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘তুমি আর আমি যখন সিঙ্গেলে খেলেছি, তখন তো দুজনের টাকা দিয়েছি।’ জবাবে নিজাম শেখ বলেন, ‘না, আমি ৫০০ টাকা দিয়েছি।’ পরে আরেকজন বলেন, ‘সে তোমারও টাকা নিছে, আমারও টাকা নিছে।’ ভিডিওর এই কথোপকথন থেকেই টাকার বিনিময়ে খেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন অনেকে।
লুডু জুয়ার লেনদেনের ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নিজাম শেখ কোনো বক্তব্য দেননি। উল্টো তিনি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নাম ভাঙিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইয়ুব আলী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে যেকোনো খেলাই অপরাধ। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা প্রশাসন বলেছে, বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন স্থানীয়দের দৃষ্টি তদন্তের ফল ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে—একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।






