বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

‘হামলার আশঙ্কা থেকেই অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম’ — গেন্ডারিয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রবিবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কা থেকেই তিনি তাঁর ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের জন্য সেটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অংশ নেওয়া কর্মসূচির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন কতটা যৌক্তিক — সেই প্রশ্ন ওঠে নানা মহলে। সেই বিতর্কের মুখেই রবিবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তিনি।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ পেয়ে আসছেন। বিশেষ করে ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকাকে মাদকপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্থানীয়দের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত একটি সহিংস ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী ওই এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি একাধিক বৈঠক করেন। মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় ডিও লেটার দেওয়ার কথাও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবারের কর্মসূচিটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গেন্ডারিয়ায় সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

অস্ত্র বহনের কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকায় যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালানো হতে পারে — এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

বিবৃতিতে ঘটনার মূল মুহূর্তের বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী অবস্থায় তাঁদের গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে আসে। হামলার আশঙ্কায় তখন তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে স্বল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অস্ত্রটি আবার যথাস্থানে রেখে দেওয়া হয়।

ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই সেটি বহন করা হয়েছিল। অর্থাৎ অস্ত্রটি অবৈধ ছিল — এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেই তাঁর দাবি।

বিবৃতিতে কর্মসূচির পরের অভিযানের চিত্রও তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাবি, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালানো হয় এবং চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ আলাদাভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কি না, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে, ফলে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট পাঠকের সামনে আসেনি। কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান, পুলিশের উপস্থিতি, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জন আটকের তথ্য বাদ দিয়ে শুধু তাঁর অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা জরুরি। আংশিক চিত্র দিয়ে সংবাদ পরিবেশন হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

বিবৃতির শেষভাগে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে দিনভর গুঞ্জনের পর প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা এলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, তা নির্ভর করছে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার স্বতন্ত্র তথ্য প্রকাশ এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। আপাতত বিবৃতিটিই এই ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি • ৭ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের খবর ‘ভুয়া’ বলার পর এবার হাসনাতের খোঁচা, ইশরাক বললেন বাঁশের লাঠিতে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করবেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিনভর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাম…

রাজনীতি • ৪ মিনিটে পড়ুন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড…

রাজনীতি • ২ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের খবরকে ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁর পদত্যাগের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে…

রাজনীতি • ৪ মিনিটে পড়ুন

পিএসসিতে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে, রাজপথে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবিরের

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও একের পর এক সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ই…