বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

পদত্যাগের খবর ‘ভুয়া’ বলার পর এবার হাসনাতের খোঁচা, ইশরাক বললেন বাঁশের লাঠিতে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিনভর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থামেনি। ইশরাক নিজে ও তাঁর দপ্তর খবরটিকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করলেও রোববার রাতে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ফলে পদত্যাগের গুঞ্জন, অস্বীকৃতি আর পাল্টা রাজনৈতিক মন্তব্য—সব মিলিয়ে ইশরাক ইস্যুই এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক খবর।

হাসনাত আবদুল্লাহ রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টদের কটাক্ষ করে লিখেছেন, তাঁরা পড়েছেন বিপদে। তাঁর ভাষায়, গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজের প্রশংসা, আজ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রশংসা লিখতে না লিখতেই জানা গেল, পদত্যাগের সিদ্ধান্তই ভুয়া। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করতে বলেননি, তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে হবে।

পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভুয়া। এখন আবার লিখতে হবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলা কেন ভালো হয়েছে সেটি।’

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঝখান দিয়ে ইশরাক চিনে গেলেন নিজের দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সেই সঙ্গীদের, যারা তাঁর পদত্যাগে খুশি হয়েছেন, উল্লাস করেছেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইশরাকের দলের ভেতরের প্রতিক্রিয়ার দিকেও ইঙ্গিত করেন।

পূর্ণমন্ত্রী পার্থের পদত্যাগ দাবি করা উচিত উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, এখন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উচিত হবে পূর্ণমন্ত্রী জনাব পার্থের পদত্যাগ দাবি করা। এই ‘মিডিয়া ক্যু’র পেছনে তাঁর হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এর আগে সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এসব খবরেই স্বীকার করা হয়, এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাতে ইশরাক হোসেন নিজে বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এ বিষয়টিকে আপনারা অবশ্যই গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনও সত্যতা এখন পর্যন্ত নেই। এরকম যদি কোনও সিদ্ধান্ত আমরা দল থেকে নেয়, তাহলে আপনাদের জানানো হবে।’

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা ‘গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠান। এতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশরাকের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃত সত্য এই যে প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও এতে অভিযোগ করা হয়।

একই বিজ্ঞপ্তিতে শনিবারের ঘটনার প্রসঙ্গও তোলা হয়। এতে বলা হয়, শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগ সংক্রান্ত যেকোনো খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থি। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয় এবং বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা মাধ্যমগুলোকে তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়; তা না হলে ‘অপপ্রচারকারীদের’ বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

রাত সোয়া আটটার দিকে ইশরাক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বাঁশের লাঠি নিয়ে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করার ঘোষণা দেন এবং মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, মাদকের সব আস্তানা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কিছু নামকরা গণমাধ্যমের আইনের ধারা ব্যাখ্যা নেওয়ার সামর্থ্য আছে এবং তারা সে চর্চা করেও; সব জেনেশুনে তাদের খবরের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ঘুন্টিঘরে মাদকের এক্সক্লুসিভ সাপ্লায়ার ছিল এরা, তাই তাঁর অভিযানের পর তারা বন্য পশুর মতো আচরণ করছে। ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বলে তিনি লেখেন, সব মাদকের আখড়া মাটির সঙ্গে মেশানো হবে।

নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, এখন থেকে এই আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবেন। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হবে। ‘মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ’ বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।

এই বিতর্কের শুরু শনিবার। সেদিন রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে এক হাতে হ্যান্ডমাইক ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে তাড়া করতে দেখা যায় তাঁকে। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে অস্ত্র তাক করে তাদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যায় কি না এবং একজন জনপ্রতিনিধি নিজে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট ডিসিকে বলা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে ইশরাক তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন; সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় চার-পাঁচটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের নির্দেশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি, ইশরাকপক্ষ তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে, আর হাসনাত আবদুল্লাহর খোঁচা ও ইশরাকের পাল্টা ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক আরও ছড়িয়েছে। দল বা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু জানায় কি না এবং ডিবির পর্যালোচনা প্রতিবেদনে কী আসে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি • ৩ মিনিটে পড়ুন

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: ছয় সচিব বদলি, একজনকে পদোন্নতি, দুজন ভারপ্রাপ্ত সচিব

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করেছে সরকার। ছয় সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নত…

রাজনীতি • ৫ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের গুঞ্জনে নিজেই মুখ খুললেন ইশরাক: নির্দেশ কার্যকর হলেই সংবাদ সম্মেলনে জানাবেন

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন — এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর এবার নিজেই মুখ খুললেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। যাচাইকৃত ফে…

রাজনীতি • ৪ মিনিটে পড়ুন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড…

রাজনীতি • ২ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের খবরকে ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁর পদত্যাগের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে…