ওরাকল হেলথের সাইবার হামলায় প্রায় ২ কোটি রোগীর তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগী ধরে নেন, তাঁর স্বাস্থ্য তথ্য গোপন থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ওরাকল হেলথের সঙ্গে যুক্ত এক বিশাল সাইবার হামলা সেই আস্থাতেই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—প্রায় ২ কোটি মানুষের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, ওরাকলের পুরনো সার্নার সিস্টেমে সাইবার হামলায় আনুমানিক ১ কোটি ৯৯ লাখ ২৯ হাজার ১৪৯ জনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেলের আনুষ্ঠানিক তথ্য ফাঁস পোর্টালে ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর সার্নারের তালিকা প্রকাশিত হয়, যেখানে শুধু টেক্সাসেরই ২৯ লাখ ৯২ হাজার ২৪৪ জন বাসিন্দাকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ওরাকল অবশ্য দেশজুড়ে মোট ক্ষতিগ্রস্তের এই সংখ্যা প্রকাশ্য বিবৃতিতে আলাদাভাবে নিশ্চিত করেনি। তবু প্রকাশিত মাত্রা সত্যি হলে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলোর একটিতে পরিণত হবে।
সার্নার হলো ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড প্রযুক্তির একটি প্রতিষ্ঠান, যাকে ওরাকল ২০২২ সালের জুনে প্রায় ২ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারে কিনে নেয়। ব্যবসাটি এখন ‘ওরাকল হেলথ’ নামে পরিচালিত হয়। সার্নারের প্রযুক্তি দিয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করে, ফলে এসব সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে একসঙ্গে বহু প্রতিষ্ঠানের রোগীর তথ্য ঝুঁকিতে পড়ে।
সমস্যার শুরু ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে। ওরাকল ২০২৫ সালের মার্চে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা গ্রাহকদের জানাতে শুরু করে যে পুরনো সার্নার সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক যোগাযোগ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখের দিকে ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়।
তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন, হামলাকারী চুরি করা গ্রাহক লগইন তথ্য ব্যবহার করে ২২ জানুয়ারির পর কোনো এক সময়ে একটি পুরনো (লেগ্যাসি) সার্ভারে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে তথ্য অন্যত্র আরেকটি সার্ভারে কপি করে নিয়ে যায়। ওই সার্ভারটি তখনো ওরাকল ক্লাউডে স্থানান্তরিত হয়নি।
তবে সার্ভারের বয়সই এই ফাঁসের কারণ ছিল—এমনটি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চুরি করা লগইন তথ্য হামলাকারী ঠিক কীভাবে পেয়েছিল, তাও এখনো স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতাই অস্বস্তিকর প্রশ্নটি সামনে আনছে: হাসপাতাল প্রযুক্তি আধুনিকায়নের পরেও পুরনো সিস্টেমগুলোতে কতটা সংবেদনশীল রোগী তথ্য পড়ে আছে?
রোগীদের জন্য উদ্বেগটা শুধু পাসওয়ার্ড চুরির চেয়ে অনেক বড়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর), রোগ নির্ণয়ের বিবরণ, এমনকি চিকিৎসা সংক্রান্ত ছবিও পেয়ে থাকতে পারে।
এ ধরনের তথ্য দিয়ে চিকিৎসা পরিচয় চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়—যেখানে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসা নেওয়া বা বীমা দাবি করার চেষ্টা হতে পারে। সাধারণ পাসওয়ার্ড বদলে ফেললেই এই ঝুঁকি শেষ হয় না, কারণ রোগ নির্ণয় বা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের মতো তথ্য বদলানো যায় না।
ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের হলেও এর পূর্ণ মাত্রা এখনো ধাপে ধাপে সামনে আসছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অবহিত করা, তদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া—এসবের মধ্য দিয়েই আগামী মাসগুলোতে এই তথ্য ফাঁসের চূড়ান্ত ছবি পরিষ্কার হবে।
স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল রেকর্ডের বিস্তার যত বাড়ছে, এই ঘটনা ততই মনে করিয়ে দিচ্ছে—পুরনো সিস্টেমের নিরাপত্তা অবহেলা করলে তার মূল্য দিতে হয় লাখো রোগীকে।






