মিনেসোটার জালিয়াতি কেলেঙ্কারির দায় নিলেন গভর্নর ওয়ালজ, পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জালিয়াতি কেলেঙ্কারি সামাল দেওয়ার ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন গভর্নর টিম ওয়ালজ। শুক্রবার ‘দ্য লিভার’ পডকাস্টের এক পর্বে তিনি বলেন, এই কেলেঙ্কারির জেরেই তিনি পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক তির্যক মন্তব্যও করেন তিনি।
ওয়ালজের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন জালিয়াতদের অর্থ প্রদান নিজে থেকে বন্ধ করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না; সেই ক্ষমতা পেতে আইনসভার পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তবে তা সত্ত্বেও তিনি স্বীকার করেন, তাঁর প্রশাসনের আরও আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
জালিয়াতির অঙ্ক নিয়ে তিনি বলেন, এক ডলারের জালিয়াতিও অতিরিক্ত; তবে যে পরিমাণ অর্থের জালিয়াতির বিচার হয়েছে এবং যারা কারাগারে গেছে, সেই পরিমাণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বলরুমের জন্য যে অর্থ চাইছেন, তার চেয়েও কম — এমন তুলনাও টানেন তিনি।
জালিয়াতির অভিযোগ তাঁর জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে — উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালজ বলেন, হ্যাঁ, এগুলো সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। সেই কারণেই তিনি এই দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন বলেও জানান।
পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ওয়ালজ জানান, মেলিসা হর্টম্যান হত্যাকাণ্ডের পরেই, অন্তত বড়দিনের আগেই, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যে তিনি আর নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। তাঁর ভাষ্য, তিনি তখনই বলেছিলেন — এই ইস্যু দিয়ে অন্যান্যদের ওপর এবং পুরো ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ চালানো হবে। ওয়ালজ ২০২৬ সালের শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি তৃতীয় মেয়াদে গভর্নর পদে প্রার্থী হবেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, সব অঙ্গরাজ্যেই এ ধরনের জালিয়াতি আছে, বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে এর পরিমাণ আরও বেশি। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে মিনেসোটাকেই বেছে নিয়েছে — সোমালিদের দোষারোপ করা, তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তিকে দোষারোপ করা এবং সমৃদ্ধ এই অঙ্গরাজ্যকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এতে তাঁদের দায় কমে যায় না বলেও তিনি স্বীকার করেন। তাঁর কথায়, কিছু ক্ষেত্রে আরও আগে ফাঁক বন্ধ করা উচিত ছিল; এখন অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখছে।
ওয়ালজের অভিযোগ, জালিয়াতি ও দুর্নীতি সরকারের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং তা রিপাবলিকানদের হাতেই সুবিধা তুলে দেয়। তাঁর দাবি, রিপাবলিকানরা এই সুযোগে সামাজিক কর্মসূচিগুলো বন্ধ করার যুক্তি পায় — যেসব কর্মসূচি শিশুদের খাবার দেয় কিংবা অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে, সেগুলোকে তারা অপছন্দ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, এই কেলেঙ্কারি রিপাবলিকানদের জন্য যেন এক ‘উপহার’ হয়ে এসেছে।
তবে ওয়ালজের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন তাঁর সমালোচকেরা। হাউস জুডিশিয়ারি ডেমোক্র্যাটদের সাবেক প্রধান আইনজীবী জুলিয়ান এপস্টাইন বলেন, এসব অজুহাত বুদ্ধিমত্তার প্রতি অপমান। তাঁর মতে, জালিয়াতির প্রমাণ থাকলে অর্থ প্রদান বন্ধ করার যথেষ্ট ক্ষমতা গভর্নরের আছে; তিনি প্রমাণ রাজ্য ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছেও পাঠাতে পারেন। এপস্টাইনের অভিযোগ, এই পদ্ধতিগত জালিয়াতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে, আর ওয়ালজের মতো কর্মকর্তারা প্রায় কিছুই করেননি; জালিয়াতির সুবিধাভোগীরা তাঁদের ভোট ও প্রচারণায় অর্থ দিত বলেই চোখ বুজে থাকা হয়েছিল কি না — এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
একইভাবে হাউস জুডিশিয়ারি ডেমোক্র্যাটদের সাবেক প্রধান আইনজীবী থিও ওল্ড বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিদেশি ও অপরাধীরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ লুট করেছে, আর ডেমোক্র্যাটরা তা ঘটতে দিয়েছে; এখন তারা বিষয়টি এড়িয়ে রিপাবলিকানদের দোষ দিচ্ছে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা চায় সরকার মার্কিন নাগরিকদের জন্য কাজ করুক।
এপস্টাইন ও ওল্ডের মন্তব্যের বিষয়ে গভর্নর ওয়ালজের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া মেলেনি।
মিনেসোটার এই জালিয়াতি কেলেঙ্কারি এখন শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঘটনাই নয় — যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে সামাজিক কর্মসূচি, সরকারি ব্যয় ও জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ওয়ালজের দায় স্বীকার সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।






