ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণ: চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় বাসের চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাকটর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)।
আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। রাব্বি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজার এলাকার চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।
দণ্ডিত তিনজনকেই দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আসামিদের টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।
পিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যান। পরে চলন্ত বাসে ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বাসটি ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে।
পরদিন বাসটি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় থামে। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারী ওই এলাকায় টহলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ওই দিনই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রোববার এই রায় দেন।




