জুড়ী-বড়লেখা সীমান্তে তিন দিন ধরে পুশ-ইনের চেষ্টা, ৩০ জনকে প্রতিহত করল বিজিবি
মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গত তিন দিনে ৩০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছেন।
সিলেট ভয়েসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চলেছে এবং প্রতিবারই বিজিবির তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ওই ৩০ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জুড়ী ও বড়লেখা দুটিই সীমান্তঘেঁষা উপজেলা। বড়লেখা এই পত্রিকার নিজের এলাকা হওয়ায় সীমান্তের যেকোনো ঘটনা এখানকার পাঠকের কাছে সরাসরি গুরুত্ব বহন করে। সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি বদলালে তার প্রভাব প্রথমে পড়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের জীবনযাপনে।
পুশ-ইন বলতে বোঝায়, কোনো দেশের নাগরিক বা সেখানে অবস্থানরত মানুষকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
এবারের ঘটনায় টানা তিন দিন ধরে চেষ্টা চলা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এক দিনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলে বিষয়টি অন্য রকম হতো; কিন্তু ধারাবাহিক চেষ্টা থেকে বোঝা যায়, সীমান্তের ওপারে এই ধরনের তৎপরতা থামেনি।
বিজিবি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্ত পাহারা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এবারের ঘটনায় তাদের প্রতিরোধের কারণেই পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ ধরনের খবর সরাসরি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। সীমান্তে অচেনা মানুষের আনাগোনা বাড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বড়লেখা ও জুড়ীর সীমান্ত এলাকায় কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও চলাচলের পথ সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে সীমান্তে যেকোনো অস্বাভাবিক তৎপরতা এই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত প্রভাব ফেলে।
এই ঘটনার বিস্তারিত, অর্থাৎ পুশ-ইনের শিকার হতে যাওয়া ব্যক্তিরা কারা এবং কোন কোন পয়েন্টে এই চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সংগৃহীত তথ্যে আর কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই প্রতিবেদনে শুধু নিশ্চিত তথ্যগুলোই তুলে ধরা হলো।
সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে এখন নজর থাকবে। পুশ-ইনের চেষ্টা আরও অব্যাহত থাকে কিনা এবং এ নিয়ে বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনো তথ্য জানায় কিনা, তার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী চিত্র। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।


