তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই দিনে এই বক্তব্য প্রধান খবর হিসেবে এসেছে, ফলে নির্বাচনের কাঠামো নিয়ে এটিই এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ঘোষণা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালে আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। অর্থাৎ ব্যবস্থাটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি সংসদীয় পথেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার। এই ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে শুধু নির্বাচন নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একাধিক প্রসঙ্গও উঠে আসে। পার্বত্য অঞ্চলের সাজেকের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাধিক ক্ষুদ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পর্যটন মৌসুমে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি জানান, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাট এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু ব্যক্তি টহলরত পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পূজার ছুটিতে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রম চলবে।
বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন ও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও কোনো পলাতক অপরাধীকে দেশে নতুন করে অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাই তিনি তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে ব্রিফিংয়ের সবচেয়ে বড় বার্তা নির্বাচনকে ঘিরেই—তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে এবং সে জন্য সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটবে সরকার। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর থাকবে।
সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তুতি, আইনসভায় তার উপস্থাপন এবং নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সর্বশেষ ও সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান।




