এমআইটি বিজ্ঞানী সাবাতিনিকে ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায়: যৌন অসদাচরণের অভিযোগ খারিজ করল জুরি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি জুরি সম্প্রতি বিজ্ঞানী ডেভিড সাবাতিনিকে ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা যৌন অসদাচরণের অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অভিযোগের জেরেই ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) তার কর্মজীবন শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং হোয়াইটহেড ইনস্টিটিউটে তার গবেষণাগার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সাতজন নারী ও ছয়জন পুরুষ নিয়ে গঠিত জুরির এই রায় সাবাতিনির দীর্ঘদিনের দাবিকেই সমর্থন দিয়েছে। তিনি বরাবরই বলে এসেছেন, তার অভিযোগকারী ক্রিস্টিন নাউস মিথ্যা বলেছিলেন। তবে এই আইনি লড়াই তার জীবনের কয়েক বছর কেড়ে নিয়েছে এবং আর্থিকভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
২০২১ সালের আগে সাবাতিনিকে জীবিত সেরা আণবিক কোষজীববিজ্ঞানীদের একজন মনে করা হতো। তিনি হোয়াইটহেডে একটি বড় গবেষণাগার চালাতেন, এমআইটিতে অধ্যাপক ছিলেন, হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের গবেষক ছিলেন এবং কয়েক কোটি ডলারের ফেডারেল অর্থায়ন পেয়েছিলেন।
তার যুগান্তকারী গবেষণা থেকে ক্যানসার ও বার্ধক্যের নতুন চিকিৎসা আসতে পারে—এমন আশা ছিল, এমনকি একদিন তিনি নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন বলেও জল্পনা ছিল।
কিন্তু সবকিছু ভেঙে পড়ে। বিচারে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, নিজের গবেষণাগার পরিচালনাকারী নাউস তাদের প্রায় দেড় বছরের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সাবাতিনিকে সরাতে ‘কভার্ট অপারেশন ডেথ্রোন’ নামে একটি পরিকল্পনা শুরু করেন। এক বন্ধুকে তিনি বার্তা পাঠান, সাবাতিনিকে ‘বিজ্ঞান থেকে ওয়াইনস্টাইন-কায়দায় সরিয়ে দেওয়া’ হবে; আরেকজনকে বলেন, তিনি ‘রক্তের পেছনে’ ছুটছেন।
নাউস সহকর্মীদের বলেন, সাবাতিনি তাকে হয়রানি ও আক্রমণ করেছেন, এবং ২০২০ সালের শরতে তিনি অভিযোগ নিয়ে যান হোয়াইটহেডের নতুন পরিচালক রুথ লেহমানের কাছে।
পরে হোয়াইটহেড একটি আইন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করায়। তবে প্রতিবেদন ও বিচারের প্রমাণ অনুযায়ী, সেই তদন্তের ফল অনেকাংশে আগেই নির্ধারিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সাবাতিনি ও নাউসের সম্পর্ক সম্মতিসূচক ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
প্রতিবেদনে মূলত সাবাতিনিকে দোষারোপ করা হয় নাউসের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মানবসম্পদ বিভাগকে না জানানো এবং তার গবেষণাগারে ‘যৌন আবহ’ থাকার অভিযোগে—যা হয়রানিবিরোধী নীতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে তার ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে বিজ্ঞান’ মনোভাব এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্য দেখানোদের প্রশংসা করার প্রবণতা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়।
এর পরিণতি ছিল তাৎক্ষণিক। হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউট দ্রুত সাবাতিনিকে বরখাস্ত করে; একই দিনে হোয়াইটহেড তাকে চাকরিচ্যুত করার কথা জানালে তিনি পদত্যাগ করেন।
লেহমান পরবর্তী সময়ে এক জবানবন্দিতে তার নামে আরোপিত কিছু মন্তব্য অস্বীকার করেছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
রায়ের পর মন্তব্যকারীদের একাংশ বলছেন, বিচারে উঠে এসেছে এমআইটি ও হোয়াইটহেডের অবস্থান কতটা দুর্বল ছিল, এবং প্রতিষ্ঠান দুটিকে জনসম্মুখে জবাবদিহি করতে হবে। কেউ কেউ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এমআইটি ও হোয়াইটহেডের বিষয়ে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছেন।
৬ মিলিয়ন ডলারের এই রায় সাবাতিনির জন্য একটি বড় আইনি জয় হলেও বছরের পর বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ের ক্ষত সহজে মুছবে না। একজন শীর্ষ বিজ্ঞানীর গবেষণাজীবন কীভাবে একটি অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, এই মামলা আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে সেই বিতর্ক আবার সামনে এনেছে।




