এশিয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম: ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড—তিন দেশেই বেড়েছে
এশিয়ার প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের সংকট, ভারতীয় রুপির বিনিময় হার বাড়া, উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ এবং চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক ভারতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চাল প্রতি টন ৩৮৭ থেকে ৩৯২ ডলারে লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ডলার। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দামও বেড়ে টনপ্রতি ৩৮৯ থেকে ৩৯৪ ডলারে উঠেছে; দুই সপ্তাহ আগে তা ছিল ৩৮৫ থেকে ৩৯০ ডলার।
ভারতে দাম বাড়ার পেছনে রুপির শক্তিশালী অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ঘাটতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কলকাতাভিত্তিক এক রপ্তানিকারকের মতে, বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি রাজ্যে উৎপাদন কমেছে বলেও জানা গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম ভারতের চালের উৎপাদন কমতে পারে এবং উৎপাদন হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হতে পারে। ফসল পাকার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভিয়েতনামেও চালের দাম বেড়ে প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল টনপ্রতি ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪২০ থেকে ৪৩০ ডলার। গত ২১ আগস্টের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী নভেম্বর থেকে ফিলিপাইন আবার ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি শুরু করতে পারে। তাতে দেশটির রপ্তানি বাজারে চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দামের ওপর চাপ ধরে রাখতে পারে।
ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বছরের বাকি সময়ে দেশটির চাল রপ্তানিতে চাপ থাকবে। তবে চলতি বছর ৮০ লাখ টন চাল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথমার্ধে দেশটি ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৭১ টন চাল রপ্তানি করেছে; এতে চলতি বছরে মোট রপ্তানি বেড়ে ৬৬ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
থাইল্যান্ডেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বেড়ে টনপ্রতি ৪৮০ ডলারে পৌঁছেছে, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ৪৬৫ থেকে ৪৬৮ ডলার।
থাইল্যান্ডে দাম বাড়ার পেছনে চাল বোঝাইয়ের জন্য বন্দরে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিকারকদের বাড়তি কেনাকাটাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অফ-সিজন ফসল কাটার মৌসুম শেষের দিকে থাকায় ব্যবসায়ীরা মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে বন্যার কারণে ধান কাটা ও চাল সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে প্রতিযোগিতা বাড়া এবং প্রধান ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছর থাইল্যান্ডের চাল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে। দেশটির চাল রপ্তানিকারক সমিতির আশঙ্কা, এ বছর ৭০ লাখ টন চাল রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে ভারতের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ, ভিয়েতনামের সম্ভাব্য রপ্তানি চাহিদা এবং থাইল্যান্ডের সরবরাহসংকট—তিন কারণেই এশিয়ার চালের বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চাল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।


