টানা চার দিনের ছুটির লোভে নিজের স্কুলেই ভুয়া বোমা হামলার হুমকি, দিল্লিতে ষোলো বছরের ছাত্রী আটক
লম্বা ছুটির লোভে নিজের স্কুলেই বোমা হামলার ভুয়া হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একাদশ শ্রেণির ষোলো বছর বয়সী এক ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার স্কুল বন্ধ করাতে পারলেই টানা চার দিনের ছুটি মিলত—এমন উদ্দেশ্য থেকেই সে হুমকির ই-মেইল পাঠিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর দিল্লির লোধি রোডের এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুলে ই-মেইলটি পাঠানো হয়। ই-মেইলের বিষয়ের জায়গায় লেখা ছিল—‘আপনাদের ভবনে বোমা রাখা হয়েছে’।
হুমকির বার্তা পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। দক্ষিণ দিল্লির সাইবার পুলিশ থানা প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করে এবং ই-মেইল, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, হুমকিদাতা বাইরের কেউ নয়—ওই স্কুলেরই একজন ছাত্রী। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া ডিভাইস ও আইপি-সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে পুলিশ তার কাছে পৌঁছায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রীটি তার মায়ের ফোন ব্যবহার করে একটি বিনামূল্যের ভিপিএন অ্যাপের মাধ্যমে ই-মেইলটি পাঠিয়েছিল। পরিচয় গোপন রাখতে ভিপিএন ব্যবহার করা হলেও অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে অ্যাপটি ঠিকমতো কাজ করেনি, ফলে ফোনটির প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ অনন্ত মিত্তাল জানান, তদন্তকারীরা হুমকিদাতাকে ওই স্কুলেরই একজন ছাত্রী হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর শনিবার তাকে আটক করা হয়।
ছাত্রীটির উদ্দেশ্য ছিল সেদিনের জন্য স্কুল বন্ধ করানো। সোমবার বাল্মীকি জয়ন্তী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় শুক্রবার স্কুল বন্ধ হলে সে টানা চার দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেত।
আটক ছাত্রীর বিরুদ্ধে কিশোর বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য হলো, রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে ধারাবাহিকভাবে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর ঘটনার মধ্যেই এই আটকের ঘটনা ঘটল। শুক্রবার সকালেই আরও তিনটি স্কুলে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার খবর আসে।
ওই তিনটি স্কুল হলো লোধি এস্টেটের সরদার প্যাটেল বিদ্যালয়, রোহিণীর ভেঙ্কটেশ্বর গ্লোবাল স্কুল এবং ময়ূর বিহারের সালওয়ান পাবলিক স্কুল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিনটি স্কুলই খালি করে দেওয়া হয়।
এরপর পুলিশ, দমকলকর্মী, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে ভবনগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
ওই ই-মেইলগুলো কারা পাঠিয়েছে, তা শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। একের পর এক ভুয়া হুমকিতে স্কুলগুলোতে আতঙ্ক ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে এই আটকের ঘটনা তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





