…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

নাইজেরিয়ায় নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ১৫ বছর ধরে অপেক্ষা: উত্তরের হাজারো পরিবারের অশেষ যন্ত্রণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পনেরো বছরের বেশি সময় ধরে নাইজেরিয়ার কাশিম মোহাম্মেদ আশা করে আছেন, তাঁর ছোট বোন ফালমাতা মোহাম্মেদ এখনো বেঁচে আছেন। ২০১১ সালে মায়ের সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরি থেকে দক্ষিণের পোর্ট হারকোর্টে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন ফালমাতা। কাশিমের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা দুজনকে অপহরণ করেছিল। সেই থেকে পরিবারটির অপেক্ষা আর শেষ হয়নি।

বছর কয়েক পর মাইদুগুরির বাগা রোড বাজারে এক ব্যক্তি কাশিমের কাছে এসে এমন খবর দেন, যা পরিবারটির আশা ক্ষণিকের জন্য জাগিয়ে তুলেছিল। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ফালমাতাকে বেনিনে পাওয়া গেছে এবং তিনি তাঁর স্বজনদের খুঁজছেন। কিন্তু কোনো যোগাযোগের ঠিকানা না রেখেই তিনি হারিয়ে যান। তথ্যটি সত্য ছিল কি না, তা আজও যাচাই করতে পারেননি কাশিম। তিনি বলেন, “সেই থেকে আজ পর্যন্ত ওই তথ্য আনা ব্যক্তির বিষয়ে কেউ কিছু জানে না।”

৩৯ বছর বয়সী কাশিম মাইদুগুরির বোলোরি-২ এলাকার নগারনাম ওয়ার্ডভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ওয়েল-বিয়িং অব ডিসপ্লেসড অ্যান্ড মিসিং পারসনস ফ্যামিলিজ’-এর চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, বছরের পর বছরের সহিংসতা তাঁর পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “সহিংসতার ফলেই আমি আমার সৎবোনকে হারিয়েছি।”

তাঁদের বাবা মোহাম্মেদ কোলো মাইদুগুরির স্টেট স্পেশালিস্ট হাসপাতালে কাজ করতেন। কাশিম জানান, মেয়ের কী হয়েছে তা না জেনেই ৬০ বছর বয়সে উচ্চ রক্তচাপজনিত বলে পরিবারের ধারণা করা অসুস্থতায় মারা যান বাবা। মেয়ে ফিরে আসবে—এই আশা তিনি কখনো ছাড়েননি। কাশিম স্মরণ করেন, “বাবা সবসময় বলতেন, ‘সে যেখানেই থাকুক, আমি বিশ্বাস করি আমার মেয়ে বেঁচে আছে।’”

একই রকম শূন্যতা নিয়ে বেঁচে আছেন মুহাম্মদ আলহাজি বশিরও। তাঁর বড় ভাই আদম মুহাম্মদ বশির—পরিচিত নাম বাকুরা—নিখোঁজ হন ২০১২ বা ২০১৩ সালের দিকে, যখন মুহাম্মদের বয়স ছিল প্রায় ১৪ বছর। তখন বিশের কোঠায় থাকা বাকুরা মাইদুগুরির একটি বাজারে প্রসাধনী বিক্রি করতেন এবং রামাত পলিটেকনিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। ২৯ বছর বয়সী মুহাম্মদ বলেন, “বোকো হারাম সংকটের কারণেই আমি আমার ভাইকে সত্যিকারভাবে হারিয়েছি।”

২০০৯ সালে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। হামলা, অপহরণ ও বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে এই সংঘাত বহু জনপদ বিধ্বস্ত করেছে; অসংখ্য পরিবার আজও খুঁজে ফিরছে সেই স্বজনদের, যাঁদের পরিণতি অজানা রয়ে গেছে।

মুহাম্মদ জানান, বাকুরার পরিবার পুরো মাইদুগুরি খুঁজেছে। একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র তাঁদের কিছুটা আশা দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “যখনই শুনতাম বুলুমকুতুর পুনর্বাসন কেন্দ্রে উদ্ধার হওয়া লোকদের আনা হয়েছে, আমরা বাকুরার ছবি নিয়ে সেখানে যেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি।” মুহাম্মদ বলেন, তাঁর বাবা এবং বাকুরার মা—তাঁর সৎমা—পরে উচ্চ রক্তচাপজনিত বলে পরিবারের ধারণা করা অসুস্থতায় মারা গেছেন। ভাই বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, তার কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি ও অন্য স্বজনেরা।

এই দুই পরিবারের অভিজ্ঞতাই উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে নিখোঁজ মানুষদের স্বজনদের অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) নাইজেরিয়ান রেড ক্রস সোসাইটির সঙ্গে মিলে নিখোঁজদের সন্ধান ও বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে পুনরায় যুক্ত করার উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে আসছে।

নিখোঁজদের অধিকার নিয়ে কাজ করা স্থানীয় কর্মীদের উদ্ধৃত হিসাবে উত্তর নাইজেরিয়াজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের অনেকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বোকো হারাম-কেন্দ্রিক সংঘাত ও তার পরিণতির সঙ্গে জড়িত। কাশিম জানান, তাঁর সংগঠনের হিসাবে শুধু বোর্নো রাজ্যেই নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবার এখনো তাঁদের নিখোঁজ স্বজনের নাম নথিভুক্তই করেনি—অর্থাৎ প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে রয়েছে বছরের পর বছর খুঁজে ফেরা পরিবারগুলো—যে বাবা-মায়েরা সন্তানের খবর না জেনেই মারা গেছেন, আর যে শিশুরা বড় হচ্ছে বাবা কিংবা মা ছাড়া। কেউ নিখোঁজ হয়েছেন নিজের জনপদে হামলার সময়, কেউ সহিংসতা থেকে পালাতে গিয়ে কিংবা এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার পথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। পরিবারগুলো খোঁজে হাসপাতালে, বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে আর সংঘাত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া লোকদের রাখা কেন্দ্রগুলোতে—প্রায়ই এমন সূত্রের পেছনে ছুটে যেগুলো যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতাই কাশিম ও অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ২০২৩ সালে তাঁদের সংগঠনটি গড়তে উদ্বুদ্ধ করে; ২০২৫ সালে সংগঠনটি নাইজেরিয়ার করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের নিবন্ধন পায়। সদস্যরা প্রতি মাসে মিলিত হয়ে তথ্য বিনিময় করেন ও নিজেদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। কাশিমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো পরিবার আট-নয়জন স্বজনকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, “বোলোরি-২ এলাকায় এমন অনেক পরিবার আছে, যারা উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতায় স্বজন হারিয়েছে।”

সংগঠনটি নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদেরও সহায়তা করছে। কাশিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় ৬০০ এতিম শিশুকে সহায়তা দিচ্ছে সংগঠনটি; কেউ স্কুলে যাচ্ছে, আবার কেউ পড়েছে ঝরে—কারণ স্বজনেরা তাঁদের শিক্ষা বা অন্য মৌলিক চাহিদার খরচ জোগাতে পারছেন না। তিনি বলেন, “কঠিন জীবনযাত্রার কারণে আমরা এখন ভুগছি।” আইসিআরসি কিছু পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বলেও জানান তিনি। নিখোঁজ ব্যক্তি পরিবারের পিতা বা উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলে আয়ের উৎস হারিয়ে খাবার, বাসস্থান ও সন্তানদের স্কুলের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় বাকিদের—ফলে সংগঠনটির কাজ সন্ধানের গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিবারগুলোর টিকে থাকার লড়াইয়েও বিস্তৃত হয়েছে।

২০২৪ সালে মাইদুগুরির বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ বন্যা কিছু পরিবারের খোঁজ আরও কঠিন করে তোলে। কাশিম জানান, বন্যার পানি নগারনামের কিছু অংশ ডুবিয়ে দেয় এবং নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্ত করতে পরিবারগুলোর রাখা ছবি নষ্ট হয়ে যায়। উদ্ধার, বাস্তুচ্যুত বা অপরিচিত জনপদে পাওয়া মানুষদের শনাক্ত করতে ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; ছবি না থাকলে স্বজনদের ভরসা করতে হয় নাম, শারীরিক বর্ণনা আর স্মৃতির ওপর।

কাশিমের কাছে ফালমাতাকে ফিরে পাওয়া মানে ২০১১ সাল থেকে পরিবারটিকে তাড়িয়ে ফেরা প্রশ্নটির মীমাংসা। তাঁর বাবা মারা গেছেন মেয়ে ফিরতে পারে—এই বিশ্বাস নিয়েই; বেনিনে তাঁকে পাওয়া গেছে বলে যে খবর এসেছিল, সেটি সত্য ছিল কি না, তা পরিবারটি আজও জানে না। মুহাম্মদের ভাই বাকুরার খোঁজও চলছে সেই বাবা-মাকে ছাড়াই, যাঁরা একসময় তাঁর সঙ্গে একসঙ্গে খুঁজতেন।

দুটি পরিবারই আবেদন জানাচ্ছে—যার কাছে নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকতে পারে, তিনি যেন এগিয়ে আসেন। তাঁদের কাছে উত্তর পাওয়া মানে শুধু খোঁজের সমাপ্তি নয়; এর মানে এমন একজনের পরিণতি জানা, যাঁর অনুপস্থিতি বছরের পর বছর ধরে তাঁদের জীবনকে গড়ে দিয়েছে। বোনের উদ্দেশে কাশিমের বার্তা আজও এক অপেক্ষার আবেদন: “ফালমাতা মোহাম্মেদ, তুমি যদি পৃথিবীর কোথাও বেঁচে থাকো, আমরা নগারনামের বোলোরি-২ এলাকার প্রয়াত মোহাম্মেদ কোলোর পরিবার। আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

ভোটের দিন পশ্চিম তীরের সব ক্রসিং বন্ধ করছে ইসরায়েল, হেবরনে অবরোধ অব্যাহত

ইসরায়েল বলেছে, আগামী মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচনের দিন তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরের সঙ্গে সব স্থল ক্রসিং বন্ধ করে দেবে।…

আন্তর্জাতিক

৫০০ কোটি রুপির অডিও ক্লিপ ঘিরে মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা দ্বন্দ্ব চরমে, ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ ফড়নবিশের

ভারতের মহারাষ্ট্রে ৫০০ কোটি রুপি লেনদেন নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় ক্ষমতাসীন জোটের দুই শরিক বিজেপি ও শিবসেনার মধ্…

আন্তর্জাতিক

মক্কা-মদিনার দিকে আসা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির, পবিত্র নগরীতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের

সৌদি আরব বলেছে, পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝআকাশে প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের এই দা…

আন্তর্জাতিক

‘এক ঘণ্টারও কম সময়ে ইসরায়েল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে’: নেতানিয়াহুর শাসন পতনের ডাকের জবাবে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের জবাবে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গোটা ইসরায়েলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে…