টানা চতুর্থ দফায় কমল সোনার দাম: ভরিতে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি ছাড়, আজ থেকে কার্যকর
টানা চতুর্থ দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা, যা ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে, অর্থাৎ সারা দেশের জুয়েলারি দোকানে এখন থেকেই নতুন দামে সোনা কেনা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের এক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। গতকাল শনিবার এই দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা — এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে কমল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা।
১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকাই থাকছে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে — আগের দামেই।
টানা চার দফায় দাম কমায় সোনার বাজারে ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যারা গহনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এই ধারাবাহিক দাম কমা কেনার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজুসের স্থায়ী কমিটি নিয়মিত বৈঠকে বসে সোনার দাম নির্ধারণ করে থাকে এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের সিদ্ধান্তও সেই নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
এখন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই নজর থাকবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে — দাম কমার এই ধারা আরও এগিয়ে যায় কি না, নাকি বাজার আবার উল্টো পথে হাঁটে, তা জানা যাবে বাজুসের পরের বিজ্ঞপ্তিতেই।





