নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমপি পদ ছাড়বেন বলে আশা রাশেদ খাঁনের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। গতরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে লেখেন, শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানও অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম, যাঁকে তিনি একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নটি তোলেন রাশেদ খাঁন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল হিসেবে বিএনপি অবৈধ হয়, সেই সংসদে বিরোধীদলের চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম কীভাবে বৈধ হন। এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তিনি নাহিদ ইসলামের অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
রাশেদ খাঁন লেখেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবৈধ বলার আগে নাহিদ ইসলামের উচিত ছিল জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করা।
তবু যেহেতু পদত্যাগ করার আগেই বিএনপি সরকারকে অবৈধ বলে তিনি বক্তব্য দিয়ে ফেলেছেন, সুতরাং এই বক্তব্যের পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ না করলে তাঁর কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকবে না বলেও পোস্টে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে নৈতিকতার প্রমাণ দেবেন। একই সঙ্গে তিনি রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এনসিপির জনভিত্তির প্রমাণ দেওয়ার কথাও বলেন।
এই পোস্টের মধ্য দিয়ে সরকারপক্ষের একজন রাজনৈতিক সহকারীর তরফ থেকে বিরোধীদলের চিফ হুইপের পদত্যাগের প্রকাশ্য দাবি সামনে এল, যা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নাহিদ ইসলামের মন্তব্য এবং তার জবাবে রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যকেই স্পষ্ট করেছে। একদিকে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে সেই প্রশ্ন তোলা ব্যক্তির সংসদে থাকা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন।
তবে রাশেদ খাঁনের এই আশা বা দাবির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বা এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের উপকরণে পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি আদৌ পদত্যাগ করবেন কি না, তা এখনো তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর থাকবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নাহিদ ইসলাম কোনো পদক্ষেপ নেন কি না, কিংবা এই বক্তব্যের জবাব দেন কি না, তার দিকে।
পদত্যাগের মতো সিদ্ধান্ত সংসদের বিরোধীদলের ভূমিকা এবং এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল দুটোর ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই পোস্ট ঘিরে আলোচনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম।
আগামী দিনগুলোতে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, আর তার প্রথম ইঙ্গিত মিলতে পারে নাহিদ ইসলামের পরবর্তী বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত থেকেই।



