দুই সপ্তাহ বন্ধের পর আজ খুলছে রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দর, সৌদিগামী যাত্রীদের নজর ফ্লাইটসূচিতে
দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ রোববার থেকে আবার চালু হচ্ছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার পর গত ১২ অক্টোবর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দেশটির অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরটি; দীর্ঘ অচলাবস্থার পর কার্যক্রম শুরুর এই ঘোষণা সৌদিগামী যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
গতকাল শনিবার কিং খালেদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নতুন ব্যবস্থার কথা জানায়। সেখানে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ব্যবহার করা হবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য, আর সৌদি এয়ারলাইন্সের পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ব্যবহার করা হবে টার্মিনাল-২।
টার্মিনালভিত্তিক এই পৃথক ব্যবস্থা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ও সতর্কভাবে সাজানো হয়েছে। প্রথম দিনে কোন টার্মিনাল থেকে কোন ধরনের ফ্লাইট চলবে, তা আগেভাগে জানিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের বিভ্রান্তি কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরটি বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট ছিল ভয়াবহ। ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় একসঙ্গে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার পর গত ১২ অক্টোবর এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলাই ছিল কার্যক্রম স্থগিতের সরাসরি কারণ।
শুধু একবার নয়—গত দুই সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সব মিলিয়ে এই বিমানবন্দরে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বারবার হামলার সেই ধারাবাহিকতাই বিমানবন্দরটি এত দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখার পেছনের বড় কারণ।
হামলার লক্ষ্য ছিল রিয়াদ ছাড়াও আরও বিমানবন্দর। দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলায় আরও অন্তত পাঁচজনের প্রাণ গেছে। অর্থাৎ সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরই এই পর্বে হামলার মুখে পড়েছে, যা গোটা অঞ্চলের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর আবার চালু করতে যাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে কি না, তা নিয়ে এই প্রতিবেদনের তথ্যে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি; তবে দুই সপ্তাহের বন্ধের পর কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্তই ইঙ্গিত দেয়, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেই মনে করছে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য এই খবরটির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। আমাদের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ১৪৪-তে পৌঁছেছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২২ হাজার ২১ জনে। কিং খালেদ বিমানবন্দর চালু হওয়া সেই যাত্রীদের পুনরায় যাত্রা শুরুর পথ খুলে দিতে পারে।
বাতিলের সেই তালিকায় ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজসহ একাধিক এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইটও। ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত, আর ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল বহু রুটে।
তবে বিমানবন্দর চালু হওয়া মানেই সব ফ্লাইট আজ থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া নয়। কোন এয়ারলাইন্স কবে থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করবে এবং বাতিল হওয়া যাত্রীদের যাত্রা কীভাবে পুনরায় সাজানো হবে—সেসব বিষয়ে এয়ারলাইন্সগুলোর পরবর্তী ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে থাকতে হবে যাত্রীদের।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকেই টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ দিয়ে যাত্রী চলাচল শুরু হওয়ার কথা। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এই বিভাজন প্রথম দিনের চলাচলকে সংগঠিত রাখতে সাহায্য করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হামলা, প্রাণহানি আর দুই সপ্তাহের অচলাবস্থার পর কিং খালেদ বিমানবন্দরের এই পুনরায় যাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বাভাবিকতা ফেরার প্রথম বড় ইঙ্গিত। এখন চোখ থাকবে ফ্লাইটসূচি কত দ্রুত পুরোনো ছন্দে ফেরে, আর আটকে পড়া হাজারো যাত্রী—তাঁদের বড় অংশই বাংলাদেশি—কবে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।


