…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › বিনোদন › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
বিনোদন

‘আলি জি’ই শেষ: ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্র-কমেডি আর করবেন না সাচা ব্যারন কোহেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ কৌতুক অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন জানিয়ে দিলেন, তাঁর নতুন ছবি ‘আলি জি: হু ইজ আই?’-ই হতে যাচ্ছে তাঁর ঝুঁকিপূর্ণ, চরিত্রনির্ভর অতিমাত্রার কমেডি ধারার শেষ কাজ। ৫৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা বলেছেন, এই ধরনের ছবি বানানো এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ও শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে যে তিনি আর এ পথে হাঁটতে চান না।

সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহেন নিশ্চিত করেছেন, যে চরিত্র-চালিত কমেডি তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছিল, নতুন ছবিটিই সেই ধারায় তাঁর শেষ ছবি। ‘আমি এমন কাজ করতে চাই যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করে,’ তিনি বলেন। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, ‘বোরাট ৩’ আসছে না।

কোহেনের ভাষায়, সদ্য শেষ করা এই ছবিটিই তাঁর করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছবি। তবু সিদ্ধান্তে তিনি অনড়: ‘এটাই আমার করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছবি, কিন্তু আমি আর করছি না।’ তাঁর এই ঘোষণা তাই নতুন প্রকল্পের প্রচারের চেয়ে বিদায়ের বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এর আগেও কোহেন এই ধারার কমেডি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এবার ফিরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে তিনি ‘আতঙ্কিত’, আর তাঁর কমেডিকে তিনি সেই পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করার একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখেন।

নিজের ছবিগুলোর উদ্দেশ্য নিয়ে কোহেন বলেন, এসব কাজের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বর্ণালীর দুই প্রান্তের চরমপন্থা এবং ‘পুণ্যবান সহিংসতা’র বিপদ তুলে ধরতে পারেন। একই সঙ্গে তাঁর লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ অন্য কিছুও: ‘দিনের শেষে আমি চেয়েছিলাম সর্বকালের সবচেয়ে মজার ছবিটি বানাতে।’

তিনি বলেন, ‘এই ছবিগুলো বানানো সত্যিই সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু আমি এটি বানিয়েছি কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ছড়ানো ষড়যন্ত্র আর মিথ্যার এই জগৎ দেখে আমি ভীত। আমাদের মধ্যে যদি অভিন্ন তথ্যভিত্তি না থাকে, তাহলে গণতন্ত্র ধসে পড়ে, আর আমরা সহনশীল সমাজ পেতে পারি না। আর মানুষকে হাসানো তো থেরাপির মতো।’

কোহেনের প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০০০ সালে ‘দা আলি জি শো’ দিয়ে। এরপর ২০০৬ সালে ‘বোরাট’ মুক্তির পর তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তিনি বানিয়েছেন ‘ব্রুনো’, ‘দ্য ডিক্টেটর’, ‘হু ইজ আমেরিকা’ এবং ‘বোরাট সাবসিকোয়েন্ট মুভিফিল্ম’; পাশাপাশি ‘দ্য ট্রায়াল অব দ্য শিকাগো ৭’, ‘লে মিজারেবল’ ও ‘ডিসক্লেইমার’-এর মতো ছবিতে সিরিয়াস চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।

সাক্ষাৎকারজুড়ে কোহেন ব্যাখ্যা করেন, এই কমেডিগুলো ‘বানানো বিপজ্জনক’ এবং শরীরের ওপর ‘অবিশ্বাস্য চাপ’ ফেলে; তবে তিনি ও তাঁর দল ঝুঁকি সীমিত রেখে সবাইকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন। ঝুঁকির বাস্তবতা তুলে ধরতে তিনি সর্বশেষ ছবির শেষ দৃশ্যের বিবরণ দেন বিস্তারিতভাবে।

তাঁর বর্ণনায়, ছবির চূড়ান্ত দৃশ্যটি আট ঘণ্টার একটি অবিচ্ছিন্ন দৃশ্য, যা ছড়িয়ে আছে ১২টি লোকেশনে এবং ধারণ করা হয়েছে যেন একটানা একটি শট। ‘এর মধ্যে আছে গুলি, একটি চিকিৎসা-প্রক্রিয়া, ড্রোন আছে, বিস্ফোরণ আছে, আর পুরোটা ঘটছে মরুভূমিতে,’ বলেন তিনি।

সেই দৃশ্যের শুটিংয়ে যাওয়ার পথে এক খ্যাতিমান স্টান্টম্যানের সঙ্গে দেখা হওয়ার ঘটনাও শোনান কোহেন। মোটা স্যুটের ওপর প্রস্থেটিক মাথা পরে অভিনয়ের পরিকল্পনা শুনে সেই স্টান্টম্যান তাঁকে বলেছিলেন, এই ছবি বানালে হাসপাতালে যেতেই হবে, কারণ পানিশূন্যতায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হতে পারে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় কোহেন পুরো শুটিংজুড়ে পাশে রেখেছিলেন ‘ট্যুর দ্য ফ্রান্স’-এর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ধৈর্য-বিশেষজ্ঞকে। এত সতর্কতার পরও সেটে একাধিক জন পানিশূন্যতায় হাসপাতালে গেছেন বলে তিনি জানান—যা তাঁর ‘সবচেয়ে কঠিন ছবি’ দাবির বাস্তব প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে কোহেন জোর দিয়ে বলেন, তিনি এমন কোনো দৃশ্য কখনোই করবেন না যেখানে সত্যিই মারা যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রথম ‘বোরাট’ ছবির একটি বাদ দেওয়া দৃশ্যের কথা বলেন: সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অস্ত্র টানতে তাঁর তিন মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে—সেই কথা শুনেই কোহেন দৃশ্যটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ‘বোরাট’ ছবিতে বন্দুক-অধিকার সমাবেশের একটি দৃশ্যে তিনি গুলি খাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও রাজি হয়েছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল ছবিটি বানানো গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি নেওয়ার এই প্রবণতা তাঁকে পুরস্কারও এনে দিয়েছে: দুটি ‘বোরাট’ ছবির চিত্রনাট্যের জন্য ২০০৭ ও ২০২১ সালে তিনি অস্কার মনোনয়ন পান, আর ‘দ্য ট্রায়াল অব দ্য শিকাগো ৭’ ছবির জন্য পান অভিনয়ের মনোনয়ন।

সব মিলিয়ে কোহেনের বার্তা স্পষ্ট: ‘আলি জি: হু ইজ আই?’ দিয়ে তিনি নিজের সবচেয়ে পরিচিত ধারাটির যবনিকা টানছেন নিজের শর্তেই। ভক্তদের জন্য এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর এই শেষ ছবিটি তাঁর প্রতিশ্রুত ‘সর্বকালের সবচেয়ে মজার ছবি’র দাবি কতটা পূরণ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

বিনোদন বিভাগের আরও খবর

বিনোদন

মাত্র ৩ কোটির সিনেমার আয় ছাড়াল ১১৩ কোটি: ‘প্রেমাদা উরালি’র অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা

স্বল্প বাজেটের সিনেমার জন্য ২০২৬ সালটি হয়ে উঠেছে অভাবনীয় সাফল্যের বছর। আর সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় প্রতিশব্দ এখন কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা উরালি’ — মা…

বিনোদন

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে খোলামেলা মাইকেল ডগলাস: ‘আসল কথা হলো আস্থা’

হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মাইকেল ডগলাস খোলামেলা কথা বলেছেন ছবিতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণের অভিজ্ঞতা নিয়ে। তাঁর ভাষায়, এসব দৃশ্যের পেছনে থাকে ব্যাপক আলোচনা…

বিনোদন

চোখে ব্যান্ডেজ-পট্টি পরে সেলফি রিক ফ্লেয়ারের: ‘আমি ঠিক হয়ে যাব’

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে চোখে পট্টি বাঁধা অবস্থায় সেলফি প্রকাশ করেছেন কুস্তি কিংবদন্তি রিক ফ্লেয়ার। আগের দিন পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শ…

বিনোদন

‘সাইনফেল্ড’-খ্যাতিই পাঠিয়েছিল থেরাপিতে: জেসন আলেক্সান্ডারের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেই জীবন সহজ হয়ে যায় না — বরং সেই খ্যাতি সামলাতে তাঁকে থেরাপির সাহায্য নিতে হয়েছিল। জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম ‘সাইনফেল্ড’-এর তারক…