লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কিল-ঘুষিতে প্রাণ গেল ষাটোর্ধ্ব ফজলে আলীর, ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কিল-ঘুষি মেরে ফজলে আলী হাজারী (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মো. মাহফুজ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হাতাহাতির ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
২২ অক্টোবর রাতে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে ইদ্রিস মেম্বারের দোকানের সামনে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই হাতাহাতিতেই ফজলে আলী আহত হন।
নিহত ফজলে আলী চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীর বাড়ির বাসিন্দা। ষাট বছর বয়সী এই বৃদ্ধের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন নিহতের শ্যালক আয়ুব আলী। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে ফজলে আলীর আরেক শ্যালক ইউছুফের ছেলের সঙ্গে একই এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়।
আয়ুব আলীর ভাষ্যমতে, সেই বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্ক থেকে। পরে সমঝোতার ভিত্তিতেই আবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অর্থাৎ বিয়ে ও বিচ্ছেদ—দুটোই পরিবার দুটির জানাশোনার মধ্যেই ঘটেছিল।
কিন্তু সম্প্রতি মেয়েপক্ষের লোকজন আপত্তি তোলেন—ছেলেপক্ষ তাদের মেয়ের ছবি প্রচার করছে। এই আপত্তি থেকেই নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে আয়ুব আলী জানান।
আয়ুব আলীর ভাষ্যমতে, এর জের ধরেই ফজলে আলী ঘটনাস্থলে গেলে মেয়ের পক্ষের নাজিম হাওলাদার ও ফারুক মাঝির ইন্ধনে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে ফজলে আলী গুরুতর আহত হন।
পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথে তিনি মারা যান। হাসপাতাল থেকে ঢাকার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজিম উদ্দীন হাওলাদার বলেন, তার ভাতিজীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পরও দেলোয়ার তার অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।
নাজিম উদ্দীন হাওলাদারের ভাষ্যমতে, তখন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফজলে আলীকে মাহফুজ ঘুষি দেয়। পরে বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুই পক্ষের বক্তব্যেই ঘুষির ঘটনা ও পথে মৃত্যুর বিষয়টি এসেছে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, বৃদ্ধের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও মামলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এখন ঘটনার পরবর্তী ধাপ এগোবে।


