চাঁদপুরে মেঘনার অভয়াশ্রমে নৌ পুলিশের অভিযান: ৪০ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ, আটক ২০ জেলে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ২০ জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু এক অভিযানেই মিলেছে ৪০ হাজার মিটার কারেন্টজাল। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ রক্ষায় চলা এই অভিযান ঘিরে এলাকায় তৎপরতা বেড়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এসব তথ্য জানান মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। তার দেওয়া তথ্যেই গত ২৪ ঘণ্টার পৃথক অভিযানগুলোর বিস্তারিত জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতেই এই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার দিনগত রাতে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান চালায় মোহনপুর ইউনিয়নের নাসিরার চর ও বাংলাবাজার মেঘনা শাখা নদীতে। নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, অবৈধ চায়না চাই ও মশারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করায় সেখান থেকে ২০ জেলেকে আটক করা হয়।
ওই অভিযানে আটক জেলেদের হেফাজতে থাকা ৬০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ৮০ মিটার চায়না রিং জাল এবং ৫০ মিটার মশারি জাল জব্দ করা হয়। তিন ধরনের নিষিদ্ধ জাল একসঙ্গে ব্যবহারের চিত্রই এই জব্দের তালিকা থেকে স্পষ্ট হয়।
মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের পৃথক ধারায় ছয়টি মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযান সেখানেই থামেনি। মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, সকালে মতলব উত্তর থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার মোহনপুর ও নয়কান্দি মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় অস্থায়ী মাছের আড়তে অভিযান চালানো হয়।
সেই আড়ত অভিযানে জব্দ করা হয় ১০ কেজি ইলিশ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা ও বিক্রির জন্য রাখা এই ইলিশ জব্দের মধ্য দিয়ে অভিযান নদী থেকে বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার চিত্র পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে বিকেলে বোরচর এলাকায় নৌ পুলিশের সহযোগিতায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্বপন চন্দ্র দে জানান, ওই অভিযানে জব্দ করা হয় ৪০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল—যা এই দফার অভিযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জব্দ।
জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে মৎস্য কর্মকর্তা জানান। আর জব্দ করা ইলিশ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, যাতে নষ্ট না হয়ে তা মানুষের কাজে লাগে।
মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ইলিশের প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর নিষেধাজ্ঞার সময়ে সেখানে শিকার বন্ধ রাখতেই টাস্কফোর্স, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের এই যৌথ তৎপরতা। ২০ জেলে আটক আর ছয়টি মামলা সেই তৎপরতারই ফল।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়জুড়ে মতলব উত্তরের মেঘনা ও আশপাশের এলাকায় এমন অভিযান আরও চলবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।


