চিকিৎসক সংকটে নাজুক সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা: ৩৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১১২ জন
সুনামগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসক সংকটে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। জেলায় চিকিৎসকের মোট ৩৭১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১২ জন—অর্থাৎ পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম চিকিৎসক দিয়ে চলছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা।
সংখ্যার হিসাবেই সংকটের গভীরতা স্পষ্ট। ৩৭১টি পদের মধ্যে ১১২ জন কর্মরত থাকলে শূন্য থাকে ২৫৯টি পদ। শতাংশের হিসাবে কর্মরত চিকিৎসকের হার প্রায় ৩০ শতাংশ, আর শূন্য পদের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অল্পসংখ্যক চিকিৎসকের ওপর বেশি রোগীর চাপ পড়লে প্রতিটি রোগীর জন্য সময় দেওয়া, জরুরি সেবা সামলানো এবং নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়।
সুনামগঞ্জ সিলেট বিভাগের একটি জেলা। বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মতো এখানকার মানুষও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সেই নির্ভরতার জায়গাটিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩৭১ পদের বিপরীতে ১১২ জন কর্মরত থাকার তথ্য জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। পদ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পূরণ না হলে কাগজে-কলমে থাকা সক্ষমতা বাস্তবে রোগীর সেবায় রূপ নেয় না।
এই সংকটের কারণে জেলার স্বাস্থ্যসেবাকে ‘নাজুক’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। নাজুক শব্দটি এখানে শুধু একটি পদের ঘাটতি বোঝায় না; এটি বোঝায় পুরো সেবা ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া চাপের চিত্র।
জেলার বাসিন্দাদের জন্য এর অর্থ হলো—চিকিৎসকের দেখা পেতে অপেক্ষা, দূরের প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন কিংবা সীমিত জনবল দিয়ে চলা সেবার ওপর নির্ভর করা। যদিও এই প্রতিবেদনের উপাত্তে নির্দিষ্ট কোনো হাসপাতালের আলাদা হিসাব দেওয়া হয়নি, জেলা-পর্যায়ের মোট হিসাবই সংকটের মাত্রা তুলে ধরে।
স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখতে শূন্য পদ পূরণই সবচেয়ে সরাসরি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ২৫৯টি শূন্য পদ পূরণ না হলে বর্তমান ১১২ জন চিকিৎসকের ওপর চাপ কমার কোনো বাস্তব সুযোগ থাকে না।
সিলেট বিভাগের পাঠকদের জন্য সুনামগঞ্জের এই চিত্র গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে—বিশেষ করে যাদের বেসরকারি চিকিৎসার সামর্থ্য সীমিত।
আপাতত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জেলায় চিকিৎসক সংকটই স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে। শূন্য পদগুলো কবে ও কীভাবে পূরণ হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর থাকবে জেলার মানুষের।


