ইংল্যান্ডে স্থানীয় নেতাদের হাতে আরও ক্ষমতা ও অর্থ: হিলির প্রথম বাজেটে বড় বিকেন্দ্রীকরণ প্যাকেজ
আগামী সপ্তাহের বাজেটে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নেতাদের হাতে আরও অর্থ, আরও ক্ষমতা ও আরও সক্ষমতা তুলে দেওয়ার বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর জন হিলি। তাঁর প্রথম বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় অংশ হতে যাচ্ছে একটি বিকেন্দ্রীকরণ প্যাকেজ, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, স্থানীয় নেতাদের আর প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য ওয়েস্টমিনস্টারের কাছে ‘হাত পেতে’ আসতে হবে না। বুধবারের বাজেট বক্তব্যে হিলি সেই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই নতুন পদক্ষেপ তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ঘোষণা হতে যাচ্ছে ১৫০ কোটি পাউন্ডের একটি নতুন ঋণ সুবিধা। আগামী দুই বছরে মেয়রদের সঙ্গে সহযোগিতায় এই সুবিধার কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে অঞ্চলগুলো নিজেদের অগ্রাধিকারের প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে।
আঞ্চলিক মেয়ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, তাঁদের ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেখানে নিজেরা বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, ইংল্যান্ডে সেই সুযোগ অনেক কম—এই বৈষম্যের কথাই বারবার তুলেছেন তাঁরা।
ঋণ সুবিধার পাশাপাশি আগামী বছর প্রাথমিকভাবে ২৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ‘গুড গ্রোথ’ তহবিল বরাদ্দ করা হবে। স্থানীয় নেতারা তাঁদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই অর্থ আবাসন, পরিবহন সংযোগ কিংবা হাই স্ট্রিট পুনরুজ্জীবনের মতো কাজে ব্যয় করতে পারবেন।
তবে ট্রেজারির ভেতরে একটি উদ্বেগও আছে—সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কি এত বড় বাজেট পরিচালনার সক্ষমতা আছে? সেই ঘাটতি মেটাতে হিলি আরও ১৫ কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দেবেন, যাতে কর্তৃপক্ষগুলো দক্ষতা ও জনবল বাড়াতে পারে।
বার্নহাম এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে স্থানীয় নেতাদের আর প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ট্রেজারির অনুমোদন নিতে হবে না। তাঁর ভাষায়, তিনি স্থানীয় নেতাদের ওয়েস্টমিনস্টারে হাত পেতে যাওয়ার যুগের অবসান ঘটাতে চান; সিদ্ধান্ত যেখানে ঘরের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব, সেখানেই নেওয়া উচিত।
‘গুড গ্রোথ’ তহবিলকে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে, যেখানে আয়কর রাজস্বের একটি অংশ সরাসরি এলাকাগুলোর হাতে দেওয়া হবে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা পায়। এই ধারণাটি প্রথম তুলেছিলেন হিলির পূর্বসূরি র্যাচেল রিভস।
বাজেটে এই ব্যবস্থার আরও বিস্তারিত জানানো হবে। স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সৃষ্ট অতিরিক্ত রাজস্বের একটি অংশ স্থানীয় নেতারা রেখে দিতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে—যা প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য বাড়তি প্রণোদনা হবে।
যুক্তরাজ্যে কর ও ব্যয়ের ক্ষমতা অন্য অনেক উন্নত অর্থনীতির তুলনায় অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালীন বার্নহাম নিজেও এই সীমাবদ্ধতা সরাসরি অনুভব করেছিলেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমান সংস্কারের পেছনে কাজ করছে।
হিলি বলেছেন, মেয়র ও স্থানীয় নেতারাই সবচেয়ে ভালো জানেন তাঁদের এলাকার প্রবৃদ্ধির জন্য কী প্রয়োজন। সে কারণেই সরকার তাঁদের আরও অর্থ, আরও ক্ষমতা ও আরও সক্ষমতা দিচ্ছে, যাতে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া, বাড়ি নির্মাণ ও এলাকার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
এই প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে নম্বর ১০ নর্থের সঙ্গে সহযোগিতায়, যারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাপ্তাহিক ‘সিচুয়েশন রুম’ বৈঠক করে প্রবৃদ্ধির পথে বাধাগুলো জানতে চেয়েছে। বাজেটের পর ‘রিওয়্যারিং দ্য স্টেট’ নামে একটি শ্বেতপত্রে সিভিল সার্ভিসের পুনর্গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। বাজেটে জ্বালানি ব্যয়ে চাপে থাকা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ও ব্যাংকসহ কিছু খাতে সামান্য কর বৃদ্ধির ঘোষণাও থাকতে পারে বলে জানা গেছে।






