গণঅভ্যুত্থানের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের, ১৮ দফা বাস্তবায়নে শ্রেণি সংগঠনের ডাক
সারা দেশে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি জনগণের শ্রেণি সংগঠন গড়ে তুলে ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের ধারাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কর্মীসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
কর্মীসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মুঈনুদ্দীন আহমদ, মিতু সরকার, কাজী ইকবাল, আব্দুস সামাদ, মাহফুজুল হক, রফিক আহমেদ, কাইয়ুম হোসেন, উজ্জ্বল বালো, মনোয়ার হোসেন, হোসেইন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান খান, দীপা মল্লিক ও অনন্ত সরকারসহ সংগঠনটির নেতারা। কর্মীসভায় জুলাই গণআন্দোলন-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
কর্মীসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর বিকাল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংগঠনটির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে বলে সেখানে জানানো হয়।
বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার উচ্ছেদ করলেও দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি — লুণ্ঠনের অর্থনীতি, দুর্নীতি, বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা — অক্ষত রয়ে গেছে।’
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসেছে, কিন্তু এই সরকার শ্রমিক-কৃষক ও নিপীড়িত জনগণের সেবার পরিবর্তে আগের মতোই লুটেরাদের ও সাম্রাজ্যবাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁর অভিযোগ ছিল কঠোর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল-চিনিকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ না করে, পুঁজি বিনিয়োগ না করে, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর না করে সেগুলো লুটেরাদের কাছে লিজ দিয়ে লুটপাটের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য ও বন্দর নীতিতেও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দেশের শিল্প-কৃষি বিকাশের পথ রুদ্ধ হবে জেনেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অধীনতামূলক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। জনগণকে অন্ধকারে রেখে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফয়জুল হাকিম বলেন, এসব সিদ্ধান্ত সরকারি দল ও বিরোধী দলের এক অলিখিত ঐকমত্যেই হয়েছে। অর্থাৎ বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এসব প্রশ্নে কোনো প্রকৃত বিরোধিতা নেই বলেই তাঁর দাবি।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। ভারতের সাম্প্রতিক গণআন্দোলন এবং ইউরোপজুড়ে ছাত্র-তরুণ-শ্রমজীবী জনগণের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থা উচ্ছেদের এক আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধছে, যা মূলত সমাজতন্ত্রেরই পদধ্বনি।
তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের নিজস্ব শ্রেণি সংগঠন গড়ে তোলাই এগিয়ে যাওয়ার পথ। ১৮ দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে সেই সংগঠনগুলো গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার ওপরই তিনি জোর দেন।
এখন দেখার বিষয়, ৬ নভেম্বরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা থেকে সংগঠনটি নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করে কি না এবং শ্রেণি সংগঠন গড়ার এই ডাক মাঠ পর্যায়ে কতটা সাড়া ফেলে।





