ওলেশকিতে মানবিক যুদ্ধবিরতি: পুতিন-জেলেনস্কিকে এক টেবিলে এনেছিলেন মেলানিয়া, বললেন উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি করাতে মধ্যস্থতা করেছেন, যাতে যুদ্ধের সম্মুখসারির শহর ওলেশকিতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো যায়—এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান। ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস উইকেন্ড’ অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বেকম্যান বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যস্থতার পর এই সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই প্রচেষ্টা দেখিয়ে দিচ্ছে মেলানিয়া কীভাবে ফার্স্ট লেডির ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন।
বেকম্যান বলেন, ‘আমেরিকান হিসেবে আমাদের ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে বিপুল গর্ব করা উচিত। তিনি ফার্স্ট লেডির ভূমিকাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছেন—নীতি-সচেতনতা তৈরির জায়গা থেকে কর্মমুখী ভূমিকায়। তিনি জীবন বাঁচাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল তিনি এককভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ওলেশকি এলাকায় একটি যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন।’ বেকম্যান জানান, রাশিয়া এরই মধ্যে পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতি দুই দিন বাড়াতে এবং তা ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের বৃহত্তর এলাকায় সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে।
বেকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে আটকে পড়া প্রবীণ বাসিন্দাদের সাহায্য করতেই ফার্স্ট লেডি এই যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসেন—যাতে তাঁরা সরিয়ে নেওয়ার সময় পান এবং যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁদের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছাতে পারে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এই যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা ২৯ অক্টোবর। ফার্স্ট লেডি ওলেশকির পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, সেখানে থেকে যাওয়া প্রবীণ বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, খাবার ও পানীয় জল প্রয়োজন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মেলানিয়া বলেন, ‘ওলেশকির মানুষের বিদ্যুৎ সীমিত, তাঁরা মাইন পোঁতা সড়কের মধ্যে বাস করেন এবং নিয়মিত সামরিক হামলার মুখে থাকেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে, আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরে মানবিক ত্রাণ আনা এবং প্রবীণদের সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হতো।’
এই সমঝোতা ফার্স্ট লেডির আগের মানবিক কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলে জানান বেকম্যান। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে মেলানিয়া রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের শিশুদের মুক্তি ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনায় সহায়তা করে আসছেন। বেকম্যান বলেন, ছয়টি পৃথক বিনিময়ের মাধ্যমে ৩৪টি শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেকম্যান বলেন, ‘তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বুঝেছিলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার শিশুদের পুনর্মিলনের ছয়টি অনন্য মুহূর্তে গড়ে ওঠা দৃঢ় সম্পর্কগুলোকে কাজে লাগিয়েই সবাইকে টেবিলে এনে এই যুদ্ধবিরতির আলোচনা করা যাবে।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি দারুণ কাজ করেছেন। তিনি শিশুদের বাঁচানো এবং তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে মন দিয়েছেন, এবং তিনি এমন কিছু করতে পেরেছেন যা সত্যিই চমৎকার।’
এদিকে পোপ লিও চতুর্দশও ফোনে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলে মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।
ওলেশকির এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হয় এবং সম্প্রসারিত এলাকায় ত্রাণ ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ কতটা এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ফার্স্ট লেডির সরাসরি মধ্যস্থতায় রুশ ও ইউক্রেন নেতৃত্বের মধ্যে এমন সমঝোতা যুদ্ধের মানবিক দিকটিতে বিরল এক অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






