ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভ: প্রায় এক হাজার গ্রেপ্তার, মোতায়েন ৭০ হাজার পুলিশ
ফ্রান্সে দেশব্যাপী বিক্ষোভ আবারও বড় আকার নিয়েছে। শনিবার পুনরায় শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য।
দিনের শুরুতেই পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের আগাম তল্লাশি চালান। আতশবাজি ও বল বিয়ারিংয়ের মতো সম্ভাব্য অস্ত্র বহনের সন্দেহে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারগুলো ঠিক কোন কোন এলাকায় হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নির্দিষ্ট করে জানাননি।
রাজধানী প্যারিসে পুলিশের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ৩ হাজারের বেশি তল্লাশি চালিয়ে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। প্যারিসে পুলিশ পানি কামান ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে।
সারা দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অবশ্য হিসাবের বড় ফারাক রয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ, আর আয়োজক শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা ৮ লাখ। প্যারিসের অংশগ্রহণ নিয়েও পুলিশের ১ লাখ ১০ হাজারের مقابل আয়োজকদের দাবি ২ লাখ ৫০ হাজার।
মধ্য প্যারিস এদিন কার্যত অবরুদ্ধ নগরীর রূপ নেয়। দোকানিরা দোকানের সামনে বোর্ড লাগিয়ে সুরক্ষা নেন, জাদুঘর বন্ধ রাখা হয় এবং ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশনের সেবা স্থগিত করা হয়।
প্যারিসের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্লেরমোঁ-ফেরাঁ, গ্রেনোবল, লিল ও নিস শহরে অনিয়ন্ত্রিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নিসে পিছু হটতে অস্বীকৃতি জানানো একদল বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে পানি কামান ব্যবহার করা হয়। মার্সেই ও লিওনে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
প্যারিস পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘সহিংস ব্যক্তিদের মিছিলে কোনো জায়গা নেই। উদ্দেশ্য স্পষ্ট: ঝামেলা সৃষ্টিকারীদের মিছিলে যোগ দিতে বাধা দেওয়া এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
এই বিশাল পুলিশ মোতায়েনের পেছনে কারণ আগের সপ্তাহান্তের অভিজ্ঞতা। গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ পরে দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নিলে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং লিমোজে সিটি হল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এবার তেমন অশান্তি ঠেকাতেই এই কঠোর প্রস্তুতি।
এই বিক্ষোভের শুরু কয়েক সপ্তাহ আগে, যার নেতৃত্বে ছিল মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকসংকট এবং বিদ্যালয়গুলোর খারাপ অবস্থা — ভিড়ভাট্টা শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ ভবন — নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ ছিল।
পরে প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভে যোগ দিলে আন্দোলনের পরিধি বড় হয়। সরকারের কৃচ্ছ্রনীতি নিয়ে আপত্তি, মজুরি, পেনশন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ যুক্ত হয় বিক্ষোভকারীদের দাবির তালিকায়।
ফলে এখনকার দেশব্যাপী মিছিলগুলো ফ্রান্স সরকারের প্রতি বিস্তৃত অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও মাঠের চিত্র থেকে পরিষ্কার, আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে সরকার ও আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপর।





