সিলেটে ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমির বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড: ৪ জেলার ৪০ গুণীজন পেলেন সম্মাননা
সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪০ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমি। সমাজসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পদক তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের গণগ্রন্থাগারে আনন্দঘন ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে একাডেমির ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ—এই চার জেলা থেকে নির্বাচিত গুণীজনদের এক মঞ্চে সম্মানিত করা হয় এবারের আয়োজনে।
সংগঠনের সহ-সম্পাদক ক্বারী মো. শরীফ আহমেদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো ফাতাউর রহমান। তিনি আমন্ত্রিত অতিথি ও পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের ধন্যবাদ জানান এবং সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন।
মো ফাতাউর রহমান ও উপস্থাপিকা হেপি জান্নাতের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমির সভাপতি আবু সালেহ আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আশ্রাফুল করিম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাসুদুল হাসান।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আহমেদ বলেন, ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে বেছে বেছে ৪০ জন নিষ্ঠাবান গুণীজনকে সম্মানিত করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, এই স্বীকৃতি সমাজের নতুন প্রজন্মকে ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।
প্রধান অতিথি ড. আশ্রাফুল করিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, গুণী মানুষদের সম্মানিত করলে সমাজে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা বাড়ে। সিলেট অঞ্চলের চার জেলার ৪০ জন কৃতী মানুষকে এক মঞ্চে এনে সম্মাননা জানানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ মশিউল হোসাইন। এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের গুণীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করেন হবিগঞ্জের রাজু বিশ্বাস, মৌলভীবাজারের সৈয়দ কামাল আহমেদ বাবু, সুনামগঞ্জের শেখ সুজাদুল হক, সিলেটের মোয়াজ আফসার এবং দুই প্রতিভাবান শিশু সিলেটের দেবনীল সাহা ও কুলাউড়ার আহনাফ আলভি এবং বেলাল আহমদ।
এবার সিলেট জেলা থেকে পদক পেয়েছেন—ভ্রমণ সাহিত্যে মোয়াজ আফসার (সিলেট সদর), কাব্য সাহিত্যে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (ওসমানীনগর), স্কাউটিংয়ে নাসরিন সুলতানা (ফেঞ্চুগঞ্জ), লোকসাহিত্যে কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী (গোলাপগঞ্জ), প্রকাশনা ও সাহিত্যে আজিজ ইবনে গণি (বিয়ানীবাজার), সাংবাদিকতায় আতাউর রহমান কাওছার (বালাগঞ্জ), সংগঠক হিসেবে সৈয়দ আছলাম হোসেন (জকিগঞ্জ), রম্য লেখক হিসেবে মো. মাহবুবুর রশিদ (কানাইঘাট), সাংবাদিকতায় নূরুল ইসলাম (জৈন্তাপুর), কাব্য সাহিত্যে লায়েক আহমদ মাসুম (কোম্পানীগঞ্জ) এবং ফটো সাংবাদিকতায় সুয়েজ হোসেন (শাহপরান)।
সুনামগঞ্জ জেলা থেকে সম্মাননা পেয়েছেন—লিটল ম্যাগ প্রকাশনায় ফজলুর হক দোলন (সুনামগঞ্জ সদর), বাচিক শিল্পী হিসেবে তৈয়বুর রহমান (শান্তিগঞ্জ), ইসলামী গবেষণায় ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ (জগন্নাথপুর), গীতিকাব্যে এস এম শরিয়ত উল্লাহ (ছাতক), কবিতা সাহিত্যে মামুন সুলতান (দোয়ারাবাজার), সমাজসেবায় সৈয়দ আহমদ আশেকী (বিশ্বম্ভরপুর), ছোটগল্পে শেখ মো. সুজাদুল হক (ধর্মপাশা), মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় মো. জয়নাল আবেদিন বেগ (মধ্যনগর), ইতিহাসে মরহুম গোলাম মর্তুজা (জামালগঞ্জ, মরণোত্তর), ইতিহাসে ফারুকুর রহমান চৌধুরী (দিরাই) এবং প্রবন্ধ সাহিত্যে সুব্রত দাস (শাল্লা)।
মৌলভীবাজার জেলা থেকে পদক পেয়েছেন—গবেষণায় সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু (মৌলভীবাজার সদর), শিক্ষা বিস্তারে মো. সাইদুর রহমান (রাজনগর), ছড়া সাহিত্যে আবদুল হাই ইদ্রীছী (কমলগঞ্জ), ইসলামী বক্তা হিসেবে মুফতি আবদুল্লাহ আল ফারুক (শ্রীমঙ্গল), চারুকলায় জিয়াউল হক জিয়া (কুলাউড়া), সাংবাদিকতায় মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন (বড়লেখা) এবং জনসেবায় সাজেদুল ইসলাম (জুড়ী)।
হবিগঞ্জ জেলা থেকে সম্মাননা পেয়েছেন—প্রবন্ধ সাহিত্যে ছিদ্দিকী হারুন (হবিগঞ্জ সদর), লোকসাহিত্যে এডভোকেট ভিডি নিউটন (লাখাই), মুক্তিযুদ্ধে মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান তালুকদার (মাধবপুর), প্রবন্ধ সাহিত্যে সাইফুর রহমান কায়েস (চুনারুঘাট), গল্প সাহিত্যে আসআদ চৌধুরী (বাহুবল), ছোটগল্পে শাহ মুনসুর আহমেদ সেলিম (নবীগঞ্জ), আঞ্চলিক সাহিত্যে মো. মিজানুর রহমান ঠাকুর (বানিয়াচং), ইসলামী সাহিত্যে আতাউর রহমান বঙ্গী (আজমিরীগঞ্জ) এবং নাট্য নির্দেশনায় মো. আবদুল ওয়াদুদ (রাজু বিশ্বাস) (শায়েস্তাগঞ্জ)।
এছাড়া প্রতিভাবান শিশু বিভাগে সম্মাননা পেয়েছে সিলেটি ভাষা উপস্থাপনায় কুলাউড়ার আহনাফ আলভী এবং শিশুতোষ বিষয়ে সিলেটের নীল দেব।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন একাডেমির সভাপতি আবু সালেহ আহমদ, সহ-সভাপতি কাজী শাহেদ বিন জাফর, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন বেগ, সাধারণ সম্পাদক মো ফাতাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো সুয়েজ আহমদ, সহ-সম্পাদক মো শরীফ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নিয়াজ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক নাছরিন সুলতানা, সাহিত্য সম্পাদক এম আরাফাত, মহিলা সম্পাদক শাহিনা জালালি পিয়ারা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আনোয়ার আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, মকসুদ আহমেদ লাল, শেখ ছাদেক ইমতিয়াজ ও কবি এম আর ঠাকুর প্রমুখ। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান গুণীজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।




