৩০০তম টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস ভারতের: প্রথম দল হিসেবে ২০০ জয়ের মাইলফলক
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ভারতের ৩০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। আর সেই মাইলফলকের ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা গড়ল আরেক ইতিহাস — প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ জয়ের মাইলফলক ছুঁল তারা।
১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে ভারত। জয় তখন মনে হচ্ছিল অনেক দূরের ব্যাপার। সেখান থেকে সব শঙ্কা দূর করে দেন তিলক ভার্মা। তাঁর দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এক বল বাকি থাকতেই জয় পায় ভারত, ১৯.৫ ওভারে তোলে ১৮১ রান।
পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ৩০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ভারত। কিন্তু ২০০ জয়ের মাইলফলকে পৌঁছানো প্রথম দল তারাই — এই ফরম্যাটে ভারতের ধারেকাছে এখন আর কেউ নেই।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের জয় ১৭৬টি। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২৪ জয় এগিয়ে থেকে ভারত বসে আছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে।
জয়ের হারের হিসাবেও ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তাদের জয়ের হারই সর্বোচ্চ — ৭১.১ শতাংশ। ধারাবাহিক সাফল্যের এই চিত্রই বলে দেয়, কেন এই সংস্করণে ভারতকে ধরা এত কঠিন।
তবে অন্তত ১০০ ম্যাচ খেলা সব দলের তালিকায় জয়ের হারে ভারত দ্বিতীয় স্থানে। সেই তালিকার শীর্ষে আছে উগান্ডা, যাদের জয়ের হার ৭৮.৯ শতাংশ। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে উগান্ডার এই ধারাবাহিকতা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিস্তৃতিরও প্রমাণ।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের এই যাত্রা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও গভীর স্কোয়াডের ফল। ঘরোয়া আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন।
ক্রাইস্টচার্চের জয়টি শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়; ৭০ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ম্যাচ বের করে আনার মানসিকতা ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাসেরই পরিচয় দেয়। তিলক ভার্মার ইনিংসটি তাই মাইলফলকের ম্যাচে বাড়তি উজ্জ্বল্য পেয়েছে।
৩০০ ম্যাচ ও ২০০ জয়ের যুগল মাইলফলক ছোঁয়ার পর ভারতের সামনে এখন পরের লক্ষ্য — এই আধিপত্য ধরে রেখে আসন্ন সিরিজ ও টুর্নামেন্টগুলোতেও একই ধারাবাহিকতা দেখানো।



