প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী, সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী সেখানে উপস্থিত থাকছেন না। শীর্ষ পর্যায়ের এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাক্কালে তাঁকে ঢাকায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঠিক আগে রাষ্ট্রদূতকে কর্মস্থলে না রাখার বিষয়টিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বেড়েছে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে দেশের ৩৩টি নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটিতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় সফরটির অর্থনৈতিক গুরুত্বও বেশি।
রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা বা ঢাকায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রতিমন্ত্রী সেটিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে তিনি আর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি বলে সংশ্লিষ্ট খবরে বলা হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিজস্ব উদ্যোগে জলবায়ু অভিযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আসন্ন বিশ্ব সম্মেলনে জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বহুমুখী বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকার। একই সঙ্গে সম্মেলনে তহবিল বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোজন ও প্রশমন—উভয় খাতেই সমগুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে এই সহায়তা পুরোপুরি অনুদান হিসেবে ছাড় করার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক দরকষাকষির টেবিলে দেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে একটি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মিলে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করেছে, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয় তরুণ সমাজকেও সম্পৃক্ত করার রূপরেখা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর ও রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতির বিষয়টি একসঙ্গে সামনে আসায় সফরের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সফরের কর্মসূচি অনুযায়ীই সব প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে বলে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
এখন সবার নজর ২৬ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া চার দিনের টোকিও সফরের দিকে। সেই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী কী সিদ্ধান্ত আসে, তা-ই হবে পরবর্তী বড় আলোচনার বিষয়।






