রাজৈরে চুরির অভিযুক্তকে ধাওয়া করতে গিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধ মেরজন শেখের
মাদারীপুরের রাজৈরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মেরজন শেখ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার টেকেরহাট বাজারে ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
নিহত মেরজন শেখ রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, তিনি মিলন শেখের ছেলে। আর চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম হাসিবুল খাঁ (৩০)। তিনি একই উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দ্বারাদিয়া গ্রামের ইলিয়াস খাঁর ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ অক্টোবর। ওই দিন রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকায় মেরজন শেখের বাড়িতে মাদ্রাসার জন্য সাহায্য চাইতে যান হাসিবুল খাঁ। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় সুযোগ বুঝে ঘর থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যান তিনি।
এর পর থেকে মোবাইল ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশায় অভিযুক্তকে খুঁজছিলেন মেরজন শেখ। শনিবার সকালে টেকেরহাট বাজারে হাসিবুলকে দেখতে পেয়ে তিনি তাঁর পিছু ধাওয়া করেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ একজন মানুষের জন্য সেই দৌড়ই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়।
কিছু দূর দৌড়ানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মেরজন শেখ। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বাজারে ও আশপাশের এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হাসিবুল খাঁকে আটক করেন। তাঁকে মারধর করা হয় বলেও জানা গেছে। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা থেকে একজন বৃদ্ধের প্রাণ যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের মতে, অভিযুক্তকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বয়স্ক মানুষটি নিজেই ধাওয়া করতে গিয়ে বিপদে পড়েন। এখন পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই সবার দাবি।
নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের দাবি, চুরির ঘটনাটি আগেই যথাযথভাবে দেখা হলে হয়তো এমন পরিণতি হতো না। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে, আর একটি চুরির ঘটনা কীভাবে একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতিতে রূপ নিল, তা নিয়ে আক্ষেপ করছেন অনেকে।




