মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, দ্বীনি শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও গর্হিত ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইমামদের কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
এর আগে কাউন্সিল অধিবেশনে সারা দেশ থেকে যোগ দেওয়া ইমামদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষ যাতে অসৎ উদ্দেশ্যে উসকানি ছড়িয়ে দেশের বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাজে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় জুমার খুতবায় মাদক, উগ্রবাদ ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি ইমামদের সামাজিক সচেতনতার কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা বলেন।
কাউন্সিল অধিবেশন চলাকালে জাতীয় ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের দাবি তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে প্রতিকার প্রত্যাশা করেন। ইমামদের পেশাগত দাবি-দাওয়ার বিষয়টিও অধিবেশনে গুরুত্ব পায়।
ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি দিক একসঙ্গে উঠে এসেছে — একদিকে মাদ্রাসায় নিপীড়নের ঘটনায় সরকারের কঠোর আইনি অবস্থান, অন্যদিকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ইমামদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব।
মাদ্রাসা শিক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ। সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও প্রশাসন — সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
তবে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই হবে সরকারি পদক্ষেপের লক্ষ্য।
ইমাম সমিতির কাউন্সিলে মন্ত্রীর উপস্থিতি ও বক্তব্য দেশের ইমাম সমাজের কাছেও একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে — ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্বের জায়গা থেকে শিক্ষার্থী সুরক্ষা ও সম্প্রীতি রক্ষায় তাদের সক্রিয় থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে, মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা শিক্ষার্থী সুরক্ষার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এই ঘোষণার বাস্তবায়ন কীভাবে হয়, সেদিকে এখন নজর থাকবে অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের।





