বিদেশে মার্কিনদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা অনেক বাড়িয়েছে ইরান, গোয়েন্দা স্মারকে সতর্কবার্তা
বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা স্মারক। স্মারক অনুযায়ী, আমেরিকানদের হত্যার ষড়যন্ত্র মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে এই স্মারক পাঠান। মার্কিন কর্মকর্তারা স্মারকটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অশ্রেণিবদ্ধ এই স্মারকের খবর প্রথম প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস, পরে তা হাতে পাওয়ার কথা জানায় ফক্স নিউজ।
স্মারকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে যে ইরান বিদেশে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইরানিদের প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রের তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কিছু দেশে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই স্মারক আসার মাত্র কয়েক দিন আগে পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সরকার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে যাচ্ছে। দূতাবাসের জনবল সম্পর্কে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে নতুন তথ্য পেলেই তা মূল্যায়ন করা হয়। হুতি হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানি সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের তথ্যই ওই অঞ্চলের দূতাবাসগুলোর জনবল সমন্বয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
স্মারকে আরও বলা হয়েছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কিছু তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস নামিয়ে আনার কাজ করবেন, যাতে সেগুলো পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে কর্মরত কূটনীতিক ও কর্মীদের সরাসরি সতর্ক করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানায়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কর্মী প্রত্যাহারের খবর সঠিক নয়। মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক বন্ধের আশঙ্কার দাবি ভুল। নির্দেশিত প্রত্যাহার শুধু সৌদি আরবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণরত ও সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী আমেরিকানদের জন্য সতর্কবার্তা নবায়ন করেছিল। সর্বশেষ এই সতর্কতা এসেছে সৌদি আরবের দিকে হুতি বিদ্রোহীদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানি তৎপরতার এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা সামরিক হামলার কথা ভাবছেন, যদি তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়।
ফলে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে দূতাবাসের জনবল কমানো ও ভ্রমণ সতর্কতা, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিদেশে থাকা আমেরিকানদের নিচু প্রোফাইল বজায় রাখার পরামর্শও আগের সতর্কবার্তায় দেওয়া হয়েছিল।
এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। শ্রেণিবিন্যাস নামানো গোয়েন্দা তথ্য দূতাবাসগুলোতে পৌঁছানোর পর জনবল ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় আরও কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই হবে পরিস্থিতির গতিপথ বোঝার প্রধান সূত্র।





