আট দিন পর প্রাণ ফিরল হিলি স্থলবন্দরে, শুরু আমদানি-রপ্তানি
টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটিসহ এই দীর্ঘ বন্ধের পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ফের সচল হয়েছে।
শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৬ অক্টোবর থেকে হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। উৎসবের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে বন্ধের মেয়াদ দাঁড়ায় টানা আট দিন।
কার্যক্রম চালুর পরপরই ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এসব ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের পর দেশীয় ট্রাকে বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ বন্ধের পর বন্দর এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রমই পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র।
তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও এই আট দিনে যাত্রী যাতায়াত থেমে থাকেনি। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল পুরো সময় জুড়েই।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হয়নি। শনিবারও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ থাকার অর্থ হলো এই পথে আসা পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক স্থবিরতা। কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন শ্রমিকদের সেই স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তানির গতি আরও বাড়বে এবং বন্ধের সময় জমে থাকা কাজের চাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
উৎসবের ছুটি শেষে বন্দরের এই পুনরায় সচল হওয়া সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য স্বস্তির খবর। এখন নজর থাকবে, বন্ধের আট দিনের ধাক্কা কাটিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কত দ্রুত পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারে।



