সিলেট বিভাগে হামে মোট প্রাণহানি ২০২: এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন করে ভর্তি ১২৫
সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েই এবার ২০২-এ পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশু দুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তাদের একজনের বয়স মাত্র তিন মাস, অন্যজনের ১০ মাস। শিশু দুটি সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মৃত্যু এখনো সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেওয়া মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ১৯২ জনের এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২।
জেলাভিত্তিক হিসাবে মৃত্যুর বড় অংশই সিলেট ও সুনামগঞ্জে। সিলেটে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু ৭৯ জনের এবং নিশ্চিত মৃত্যু চারজনের। সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক মৃত্যু ৭০ জন ও নিশ্চিত মৃত্যু একজন, হবিগঞ্জে যথাক্রমে ২৮ ও চারজন এবং মৌলভীবাজারে ১৫ ও একজন।
আক্রান্তের হিসাবও বড়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১৫। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪৪২ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত দুজনও রয়েছেন।
নতুন ভর্তির চাপও কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬০ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৬৮ জন। এর মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৮ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন, পার্কভিউ হাসপাতালে ২০ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৯ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচজন এবং বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন করে রোগী রয়েছে।
সংখ্যাগুলো বলছে, প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে, চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সাড়ে চার শ ছাড়িয়ে গেছে, আর মৃত্যুর তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম — যাদের বড় অংশই শিশু, এমনকি কয়েক মাস বয়সী শিশুও।
বিভাগজুড়ে এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন শিশুদের ভিড়, প্রতিদিনের নতুন ভর্তি আর মৃত্যুর খবরে পুরো সিলেট বিভাগের মানুষের মধ্যে হাম নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই ধারা থামাতে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিদিনের হিসাবের বাইরে মাঠপর্যায়ে কী কী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলো কত দ্রুত ফল দেবে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতেই বোঝা যাবে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর বক্ররেখা নিম্নমুখী হচ্ছে কি না।




