আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, হোয়াটসঅ্যাপে বেচাকেনার অভিযোগ
আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা খোঁজা হতো এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চলত বেচাকেনার যোগাযোগ ও লেনদেনের আলোচনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে তৈরি করা আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ পোস্টের আড়ালে প্রচার করা হতো, যাতে বাইরে থেকে দেখে সহজে বোঝা না যায়। আগ্রহী ক্রেতারা পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের কারবারের এই ধরন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। খোলা বাজার বা পরিচিত মাধ্যমের বদলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় এ ধরনের কারবার শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।
ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন আকারে অস্ত্রের প্রচার চললে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের চোখেও পড়তে পারে। ফলে কেবল ক্রেতা-বিক্রেতা নয়, পুরো অনলাইন পরিবেশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
হোয়াটসঅ্যাপের মতো এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপে যোগাযোগ সরে যাওয়ায় লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহও জটিল হয়ে ওঠে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও বিক্রি বাংলাদেশের আইনে গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হলে জননিরাপত্তার জন্য তা বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
সিলেট বিভাগসহ সারা দেশেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হয়। তবে অনলাইনভিত্তিক কারবারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া পুরো চক্র শনাক্ত করা কঠিন।
এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য — কারা এর সঙ্গে জড়িত, কোথায় অস্ত্র তৈরি হতো এবং কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কি না — তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।



