ফ্রান্সে ছাত্রবিক্ষোভের ডাক, মোতায়েন হচ্ছে ৭০ হাজার পুলিশ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ঘিরে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির প্রধান ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস অব ফ্রান্স (ইউএনইএফ) এই কর্মসূচি পালন করবে। এ ছাড়া এ সপ্তাহের শেষ দিকে মধ্যাঞ্চলীয় শহর অরলিন্সে সমাবেশের ডাক দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল।
গত সপ্তাহের বিক্ষোভে লুটপাট ও ভাঙচুরের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার ৭০,০০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।'
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব শহরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লিওঁ রয়েছে। প্যারিসে মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট সড়কও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে প্রথমে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলেও পরে একটি শ্রমিক সংগঠনকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে শহরভেদে কর্মসূচির চিত্র ভিন্ন হতে পারে।
শনিবার রাজধানী প্যারিসে ল্যুভরসহ কয়েকটি প্রধান জাদুঘর বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হচ্ছে বাসেল শিল্পমেলার কার্যক্রম। বিক্ষোভের প্রভাব যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও পড়ছে, এসব সিদ্ধান্তে তা স্পষ্ট।
গত ১৭ অক্টোবরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের অর্ধেকেরই আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না বলে জানিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী।
চলমান সংকটের কারণে চলতি মাসের শেষ দিকে নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সফর পিছিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। শুক্রবার শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক করেছেন তিনি।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথাও রয়েছে। ফলে শনিবারের কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।






