মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় তিন দফা অভিযান, আটক ৭ জেলে
মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে সাত জেলেকে আটক করা হয়েছে। মোট তিন দফা অভিযানে এই জেলেদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতেই মতলবের জলসীমায় এবার ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে, যার অংশ হিসেবে তিন দফায় অভিযান পরিচালিত হয়।
মা ইলিশ রক্ষার এই কর্মসূচি বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে নদীতে ইলিশের বংশবৃদ্ধি বাড়ে, যার সুফল মেলে পরের মৌসুমগুলোতে জেলেদের জালেই।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময়টা জেলে পরিবারগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে কঠিন। নদীতে নামতে না পারা মানেই আয়ের পথ বন্ধ থাকা। এই বাস্তবতার মধ্যেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে নামেন — অভিযানে আটকের ঘটনাগুলো সাধারণত সেই প্রেক্ষাপটেই ঘটে।
তিন দফা অভিযানে মোট সাতজন জেলে আটক হয়েছেন। ধারাবাহিক অভিযানের বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, একবারের অভিযানেই তৎপরতা থামেনি; নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সময়জুড়ে নজরদারি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে সাধারণত মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যুক্ত থাকে। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নজরদারি চালানো একক কোনো দপ্তরের পক্ষে কঠিন বলেই এই যৌথ তৎপরতা প্রয়োজন হয়।
আটক জেলেদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার ক্ষেত্রে জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে মৎস্য আইনে; কোন ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে অভিযোগের ধরন ও প্রক্রিয়ার ওপর।
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের মৎস্য অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সম্পদ। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের বড় অংশই আসে বাংলাদেশের নদী থেকে। সেই সম্পদ টিকিয়ে রাখতেই মা ইলিশ রক্ষার কর্মসূচিকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংরক্ষণের এই চেষ্টার সুফল পেতে হলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প আয় ও খাদ্য সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। সহায়তা পৌঁছালে নিষেধাজ্ঞা মানার প্রবণতাও বাড়ে — এমন অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।
মতলবের এই অভিযান আবারও দেখাল, মা ইলিশ রক্ষায় মাঠের তৎপরতা চলমান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়জুড়ে এই নজরদারি কতটা কার্যকর থাকে এবং আটক জেলেদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর।






