ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোকানে ভাঙচুর-লুটপাটে আতঙ্ক
ফ্রান্সে আবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে, আর সেই অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোকানেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে সেখানে ব্যবসা করা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু দোকান হামলার শিকার হয়েছে। ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে, ফলে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকান ও পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাকের মুখে কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্যারিসকে ঘিরে চলমান এই অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—রাজধানীর দুই প্রজন্মের মধ্যে যে সংঘাতের কথা আলোচনায় এসেছে, তা কবে থামবে। বিক্ষোভের নতুন ডাক সেই প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এই অস্থিরতা সরাসরি জীবিকার প্রশ্ন। দোকান ভাঙচুর হলে শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই হয় না, নতুন করে মেরামত ও মালামাল তোলার খরচও তাঁদের কাঁধে চাপে। তাই আতঙ্কে অনেকেই দোকান খোলা রাখা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন।
শুধু ফ্রান্সেই নয়, প্রতিবেশী জার্মানিতেও বিক্ষোভের ডাক ছড়িয়েছে। জার্মানির ২১টি শহরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ইউরোপজুড়ে অস্থিরতার বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
ফ্রান্সে পুলিশ মোতায়েনের বড় সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ৭০ হাজার পুলিশ মাঠে নামানো হলে বিক্ষোভের দিনগুলোতে শহরগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অতীতেও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে অস্থিরতার সময় দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবারও সেই আশঙ্কাই তাঁদের তাড়া করছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিক্ষোভ কেন্দ্রীভূত হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের আরেকটি কারণ হলো অনিশ্চয়তা—বিক্ষোভ কত দিন চলবে, কোথায় কোথায় ছড়াবে, তা আগে থেকে জানা যাচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিদিনের ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
এখন নজর থাকবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিনগুলোতে মাঠের পরিস্থিতির দিকে—পুলিশি প্রস্তুতি সহিংসতা ঠেকাতে পারে কি না, আর প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব ব্যবসায়ীর দোকানপাট নিরাপদ থাকে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।




