বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর ক্ষুধা ও পুষ্টি পরিস্থিতি তুলে ধরতে প্রকাশিত এই সূচকে বাংলাদেশের এই অবস্থান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে একটি দেশের অবস্থান নির্ধারিত হয় ক্ষুধা ও অপুষ্টির সামগ্রিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে। অপুষ্টি, শিশুদের বেড়ে ওঠায় ঘাটতি ও শিশুমৃত্যুর মতো মৌলিক বিষয়গুলো এই মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের জন্য এই সূচক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনবহুল এই দেশে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে অনেক দূর এগোলেও পুষ্টি নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের পুষ্টি পরিস্থিতি সূচকে দেশের অবস্থানকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
৮৪তম অবস্থান বলছে, অগ্রগতির ধারা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে বাংলাদেশকে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। সূচকের সেরা অবস্থানে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, পুষ্টি ও শিশুস্বাস্থ্যে উন্নতির সুযোগ এখনো অনেক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্ষুধা সূচকে ভালো করতে হলে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না; দরকার পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী শিক্ষায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ। এসব ক্ষেত্রের সম্মিলিত অগ্রগতিই সূচকে প্রতিফলিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই চিত্রের বাইরে নয়। বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগ ফসলের ক্ষতি করে খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর পুষ্টির ওপর।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, বিদ্যালয়ে খাবার বিতরণ আর কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার মতো উদ্যোগগুলো সূচকের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক চাপের সময়ে খাদ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন আয়ের পরিবার। তখন পরিমাণে খাবার জুটলেও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
এ অবস্থায় সূচকের ৮৪তম অবস্থান একদিকে যেমন অগ্রগতির স্বীকৃতি, অন্যদিকে তেমনি সতর্কবার্তাও। পুষ্টি নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ধরে রাখা না গেলে অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে এই অবস্থান আরও এগিয়ে নেওয়া। তার জন্য নীতি-পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ—তিনটিই সমান জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


