বগুড়ায় বিভাজকে ধাক্কা খেয়ে প্রাইভেট কার উল্টে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, চালক নিখোঁজ
বগুড়ার শেরপুরে প্রাইভেট কারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের আইল্যান্ডে ধাক্কা লেগে গোলাম রব্বানী নামের এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালককে পাওয়া যায়নি।
নিহত গোলাম রব্বানী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় কালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জালাল মিয়া। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোলাম রব্বানী একটি প্রাইভেট কারে করে বাড়ি থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। ছুটি বা ব্যক্তিগত কাজ শেষে কর্মস্থলে ফেরার সেই যাত্রাপথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পথে ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের আইল্যান্ডে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার পর গাড়িটি উল্টে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সময় গোলাম রব্বানী গাড়ির পেছনের আসনে বসে ছিলেন। সামনের অংশে থাকা চালকের সন্ধান দুর্ঘটনার পর পাওয়া যায়নি—এই বিষয়টি দুর্ঘটনার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে থেকে গেছে।
পরে ঘটনাস্থল থেকে গোলাম রব্বানীর সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরিচয়পত্রই প্রাথমিকভাবে জানিয়ে দেয় নিহত ব্যক্তি একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তিনি সদর দপ্তরে কর্মরত।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফলে পরিবারের সদস্যরা এখন সেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। গাড়িটি হেফাজতে নেওয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রাথমিক উপাদান সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় রাতের বেলায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে তার আর ফেরা হলো না।
এখন আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং নিখোঁজ চালকের সন্ধান ও দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করাই পরবর্তী পদক্ষেপ। হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই প্রক্রিয়াই বর্তমানে চলমান।






