বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, অস্বাস্থ্যকর বাতাস নিয়ে ১২তম ঢাকা
শুক্রবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর। সকাল ৮টার দিকে শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয় ৩৪৪। একই দিনে অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান নিয়ে এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম।
শুক্রবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৫৩ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিল ঢাকা, যার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেও ১৬৫ একিউআই নিয়ে সপ্তম স্থানে ছিল রাজধানী।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার বায়ুমান সূচক ২৪৪। অন্যান্য শহরের মধ্যে সেনেগালের ডাকার ১৮৪, ভারতের মুম্বাই ১৭৯ এবং কলকাতা ১৭২ স্কোর রেকর্ড করেছে। এই শহরগুলোর বাতাসও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আইকিউএয়ার জানায়, লাহোরের বাতাসে প্রধান দূষণকারী উপাদান হলো বস্তুকণা পিএম২.৫, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিকার চেয়ে ৫৭ গুণ বেশি।
এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে শহরটির ইকবাল টাউনে সর্বোচ্চ ৫৩৫ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বেদিয়ান রোডের এয়ারওয়াশে ৪৯৭, কানহায় ৪৪৬ এবং ডিফেন্স ফেজ ৫-এ ৩৬০ রেকর্ড করা হয়।
বিপজ্জনক এই বায়ুদূষণ থেকে নিজেদের রক্ষায় লাহোরের বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঢাকাসহ দূষিত শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্যও একই সতর্কতা প্রযোজ্য বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শীতের ঠান্ডা বাতাস দূষণকারী কণাগুলোকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে রাখে। ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, কারখানার ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলার সংমিশ্রণে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করে।
ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, দূষিত বাতাস শিশুদের তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বায়ুদূষণ মানুষের গড় আয়ু পাঁচ বছরেরও বেশি কমিয়ে দিতে পারে। ধোঁয়াশার কারণে স্কুল বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ বাড়ায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়মিতভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শীত মৌসুম এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য তাই এখন থেকেই সতর্কতা—বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে থাকার সময় কমানো—জরুরি হয়ে উঠছে।




