নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২: তিন দিন আগের একই উপজেলায় ১২ প্রাণহানির ক্ষত এখনো শুকায়নি
নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বড়াইগ্রাম উপজেলার থানার মোড় এলাকায়, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে। বিকেলের এই সময়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে, আর মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে যায়।
বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তাবাসসুম ট্রাভেলসের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জাহেদুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। তার আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তাবাসসুম পরিবহনের একজন যাত্রী মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহতের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি, পরে বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
দুটি বাসের যাত্রীদের মধ্যেই হতাহতরা আছেন। আহত ১২ জনের চিকিৎসা ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে যে আশঙ্কা জানানো হয়েছে, তাতে পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা বড়াইগ্রামের জন্য মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় সড়ক দুর্ঘটনা। গত ২০ অক্টোবর একই উপজেলায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
২০ অক্টোবরের দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে, উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে একই উপজেলায় আবার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
মুখোমুখি সংঘর্ষ সাধারণত ঘটে যখন কোনো একটি যানবাহন বিপরীত লেনে চলে আসে কিংবা ওভারটেকিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
নিহত যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত এবং আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিচয় জানা গেলে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
তিন দিনের ব্যবধানে বড়াইগ্রামে দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে মোট অন্তত ১৩ জনের প্রাণ যাওয়ার ঘটনা মহাসড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। শুক্রবারের দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও হতাহতদের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া গেলে চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।



