নাইরোবিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ার আশঙ্কা
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে পড়ার সময় ভবনটি নির্মাণাধীন ছিল। এলাকাটি নাইরোবির ইস্টলেই এলাকার একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়কের পাশে, যেখানে প্রায়ই হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার ভিড় থাকে।
নাইরোবির পুলিশপ্রধান ইসা মোহামুদ বলেছেন, নির্মাণাধীন ভবনটির তলা ছিল ১০টির বেশি। এত বড় একটি নির্মাণাধীন কাঠামো ব্যস্ত এলাকায় ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ শুরু থেকেই জটিল হয়ে ওঠে।
উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে একটি পার্শ্বঘটনায়। পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের দোকানে লুটপাট শুরু করা লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এলাকা খালি করে জরুরি সাড়াদানকারী দলগুলোর যাওয়ার পথ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাস্থলে থাকা মানুষকে অনুরোধ করেছে, উদ্ধারকারীরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সেজন্য তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে।
ঘটনাস্থলে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন বা হতাহতের সংখ্যা কত, তা এই প্রতিবেদনের তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। উদ্ধারকাজ এগোলে সেই চিত্র স্পষ্ট হবে।
নাইরোবিতে ভবন ধসের ঘটনা একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা। ভবনের অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কাউন্টি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তারা নির্মাতারা নিরাপত্তা নির্দেশনা ও নির্মাণমান মেনে চলছেন কিনা, তা যাচাই করতে পর্যাপ্ত পরিদর্শন করেন না।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ধসের পরই প্রশ্ন ওঠে—অনুমোদন, পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি কেন বারবার থেকে যাচ্ছে। এবারের ঘটনাতেও সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন ধসের ঝুঁকি শুধু ভবনের ভেতরের মানুষের জন্য নয়, আশপাশের পথচারী, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের জন্যও। ইস্টলেই এলাকার ভিড় সেই ঝুঁকিকে আরও বড় করে তোলে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকা পড়াদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। রেড ক্রসের দল পৌঁছালে উদ্ধার ও প্রাথমিক সহায়তার কাজ আরও সংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে ভবনটি কেন ধসে পড়ল, নির্মাণে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম ছিল কিনা—এসব বিষয়ে তদন্তের প্রশ্ন উঠবে। আপাতত সব মনোযোগ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারেই।





