টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে দগ্ধ পরিবারের শেষ সদস্য তানিশাও চলে গেলেন, মারা গেলেন তিনজনই
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনই শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালের দিকে ১৬ বছর বয়সী তানিশার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই পরিবারের দগ্ধ সব সদস্যের মৃত্যু হলো।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন, তানিশার শরীরের ৮৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এত ব্যাপক দগ্ধতা নিয়ে চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে তানিশার বাবা লালচান (৬০) ও মা নাছিমা (৫০) একই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অর্থাৎ বিস্ফোরণে দগ্ধ বাবা, মা ও মেয়ে—তিনজনই একে একে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারালেন।
ঘটনার শুরু বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে। গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের বাবা, মা ও সন্তান দগ্ধ হন।
তানিশার স্বামী নাঈম মিয়া জানিয়েছেন, নিচতলার বাসায় সকালে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হলে আগুন ধরে যায়। সেই আগুনেই বাবা, মা ও মেয়ে দগ্ধ হন বলে তিনি জানান।
দগ্ধদের উদ্ধার করে ওই দিন সকালেই জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই টানা চিকিৎসা চলছিল তিনজনের।
পরিবারটির গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরে। তানিশার শ্বশুর ও শাশুরি স্থানীয় একটি গার্মেন্টসের কর্মী ছিলেন, আর তানিশা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
নাঈম মিয়া বলেছেন, শুক্রবার তানিশার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দগ্ধ তিনজনই মারা গেলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যই এই মর্মান্তিক পরিণতির চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
একটি গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটা একটিমাত্র বিস্ফোরণে একটি পরিবারের তিন সদস্যের সবাই প্রাণ হারানোয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকালে রান্না বা দৈনন্দিন কাজের সময় সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন ধরে যাওয়ার এই ধরনের ঘটনা আবাসিক এলাকায় গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলল।
বিস্ফোরণের পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থা নিয়েই উদ্বেগ ছিল। একে একে বাবা ও মায়ের মৃত্যুর পর শেষ আশা ছিল তানিশাকে ঘিরে; শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুতে সেই আশাও শেষ হয়ে গেল।
শরীরের ৮৬ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার তথ্য থেকেই বোঝা যায়, তানিশার আঘাত কতটা গুরুতর ছিল। বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
তিনজনের মৃত্যুর পর এখন পরিবারের বাকি সদস্য ও স্বজনদের সামনে মরদেহ গ্রহণ ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতাই বাকি রয়েছে। গ্যাস লিকেজের সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণে কোনো তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেদিকে নজর থাকবে।




