হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১ হাজার ২১৪ — এক দিনে নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ১৩৫
সারাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে হাম এবং এর জটিল উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ২১৪ জনে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত এক দিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৫ জন শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৫ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েছে বাকি ১ হাজার ১১০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।
দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭৩।
সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়ি ফিরে গেছে।
মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা আগের হালনাগাদেও দেখা গেছে। এর আগের সম্মিলিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময়ও এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছিল; তখন মোট প্রাণহানি ছিল ১ হাজার ১৬২ — উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০৪ জন। সেই এক দিনে নতুন করে ৯৩ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছিল, উপসর্গ দেখা দিয়েছিল ১ হাজার ১৮০ শিশুর, ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১০২ শিশু এবং ছাড়পত্র পেয়েছিল ১ হাজার ১৫ শিশু।
শুধু হাম নয়, একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ অনুযায়ী, এক দিনে দুই রোগে মিলিয়ে প্রাণ গেছে ১১ জনের; একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ।
অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন; সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।
মাসভিত্তিক হিসাবে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাস ছিল চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী — ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। চলতি অক্টোবর মাসের শুরুতেই মারা গেছেন ৭১ জন। এর আগে আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল।
ডেঙ্গুবিষয়ক এক ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বিভাগভিত্তিক ভর্তির চিত্রও এসেছে বিজ্ঞপ্তিতে — সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৪৫ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাসপাতাল ছেড়েছেন সুস্থ হয়ে ১ হাজার ৯৬৫ জন।
একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা — দুই রোগের যুগপৎ প্রকোপে দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে বলে অধিদপ্তরের তথ্যেই উঠে আসছে।
হামে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে; এক দিনে হাজারের বেশি নতুন শিশু আক্রান্ত হওয়ার অর্থ, প্রাদুর্ভাব এখনো ঊর্ধ্বমুখী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করছে। আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণ ও প্রাণহানির গতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



