সিলেটে হামে মৃত্যু ২০০ ছুঁয়েছে, এক দিনেই উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৩ শিশুর
সিলেট অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিলেটে হামে মৃতের সংখ্যা ২০০-এ পৌঁছেছে। সুনামগঞ্জকেন্দ্রিক একটি প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা বিভাগজুড়ে শিশুদের মধ্যে রোগটির ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এরই মধ্যে সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার আগেই উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে — এমন ঘটনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে আসছে।
সিলেটের এই চিত্র দেশব্যাপী চলমান হাম প্রাদুর্ভাবেরই অংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে সারাদেশে হাম ও এর জটিল উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ২১৪ জনে।
অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত কেবল হামের উপসর্গ নিয়েই মারা গেছে ১ হাজার ১০৩ শিশু। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।
আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত এক দিনে সারাদেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে; এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২৫ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, আর বাকি ১ হাজার ১১০ শিশু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭৩।
সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মিলিত হালনাগাদ অনুযায়ী, এক দিনে হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে ১১ জনের প্রাণ গেছে; ওই একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ।
সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হামের সংক্রমণের খবর যেভাবে আসছে, তাতে অঞ্চলটির শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে; প্রাদুর্ভাবের গতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।


