রাজু ভাস্কর্যের কর্মসূচি ঘিরে ছাত্রলীগ-শিবির যোগসাজশের প্রশ্ন ছাত্রদল নেতা নাসিরের, তদন্তের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিসিএসের গেজেটবঞ্চিতদের আন্দোলন ঘিরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে কথিত গোপন যোগাযোগ ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কর্মসূচির পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের সহযোগীদের পরিচয় প্রকাশে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
ফেসবুক পোস্টে নাসির উদ্দিন নাসির দাবি করেন, গত রাতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থানরত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে ছাত্রলীগের পদধারী নেতাকর্মী হিসেবে শনাক্ত করে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
তার দাবি অনুযায়ী, আটক চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং দুজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগের দিন কর্মসূচি শুরুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের ছাত্রশিবিরের কর্মী সাদিক এবং ডাকসুর শিবির প্যানেলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসিম সেখানে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এসব ঘটনা তুলে ধরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে কথিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্রদলের এই নেতা। তার ভাষ্য, বিসিএসের গেজেটবঞ্চিতদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কর্মসূচির ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাসির উদ্দিন নাসির। তার দাবি, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্যান্ডেল স্থাপন, নতুন তোশক-বালিশ, ব্যানার, কার্পেটসহ আনুষঙ্গিক আয়োজনে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে থাকতে পারে।
তার প্রশ্ন, কয়েকজন বেকার তরুণের পক্ষে নিজেদের অর্থে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব কি না। অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে তিনি পোস্টে অর্থায়নের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ করেননি তিনি।
নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে নয়, তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। কারা কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন, কারা অর্থায়ন করেছেন এবং কারা নেপথ্যে সহযোগিতা করেছেন — সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
গেজেটবঞ্চিতদের এই অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে ক্যাম্পাসে এমনিতেই আলোচনা চলছিল; ছাত্রদল সম্পাদকের এই পোস্টের পর অর্থায়ন ও নেপথ্য সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নটি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এল।






