সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ
সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার পাওয়া খবরে এই তথ্য জানা গেছে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বড় সংখ্যায় প্রাণহানির খবর বিভাগজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে।
হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জ্বর ও গায়ে লালচে ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি নিজে নিজেই সেরে উঠলেও শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় রূপ নিতে পারে। সে কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সাধারণত দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর কথা বলে থাকেন।
এবারের হিসাবে ‘হাম ও উপসর্গ’ — দুটি শ্রেণিকে একসঙ্গে ধরা হয়েছে। এর অর্থ হলো, মৃতদের একাংশের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে রোগটির উপসর্গ মিললেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি। ফলে প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বুঝতে হলে কোন জেলায় কতজন, কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছেন — এসব বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি।
সিলেট বিভাগের চার জেলা — সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ — মিলিয়ে এই মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ পেরিয়ে যাওয়ার খবর এসেছে। তবে জেলাওয়ারি ভাগ, মৃত্যুর সময়কাল এবং আক্রান্তের মোট সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সেসব তথ্য এলে প্রকোপের বিস্তার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা হলো টিকা। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়া থাকলে প্রাদুর্ভাবের সময়ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। যে এলাকায় টিকাদানের হার কম থাকে বা কোনো কারণে শিশুরা টিকা থেকে বাদ পড়ে, সেসব এলাকাতেই সাধারণত প্রাদুর্ভাব বড় আকার নেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। শিশুর জ্বরের সঙ্গে গায়ে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা সর্দি-কাশি দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং টিকার কার্ড দেখে কোনো ডোজ বাদ পড়েছে কি না যাচাই করা — এগুলোই প্রথম করণীয়।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাধারণত আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করা এবং বাড়ি বাড়ি নজরদারি বাড়ানো হয়ে থাকে। সিলেট বিভাগে এ ধরনের কোনো বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, সেই তথ্যও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয়ভাবে শিশুদের টিকা নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরির দাবি উঠতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রাদুর্ভাবের পর টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের ভিড় বাড়ে — অনেকেই তখন বাদ পড়া ডোজ সম্পূর্ণ করতে আসেন।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য। কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা কত, কোন এলাকায় প্রকোপ বেশি এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার কী ব্যবস্থা আছে — এসব তথ্য প্রকাশ পেলে আতঙ্কের বদলে সচেতন প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
বড়লেখা টুডে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান ও স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। আপাতত অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ — সন্তানের হামের টিকা সম্পূর্ণ আছে কি না যাচাই করুন, আর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন দেরি না করে।


