তিব্বতে ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প: অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু, ধসে গেছে ৩৩৯ বাড়ি
চীনের তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। বৃহস্পতিবার রাতে আঘাত হানা এই বিপর্যয়ে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিবিসি ও চীনা বার্তাসংস্থা সিনহুয়ার বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে। ভূমিকম্পকবলিত বাচেন কাউন্টি রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। ১৯৫০-এর দশকে তিব্বতকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার পর অঞ্চলটিকে বেইজিং ‘তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করে।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শক্তিশালী এই ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত ৩৩৯টি বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। রাতের আঁধারে ভূমিকম্প আঘাত হানায় ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা কার্যকর করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে, পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও দুর্গতদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস ও পাথরধস। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ভূমিকম্পের ফলে ওপর থেকে বড় বড় পাথর খসে পড়ে স্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ থাকার কারণে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এবং ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। এতে রাতের বেলা উদ্ধার তৎপরতা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যোগাযোগও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ফেরাতে মেরামতের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
জরুরি অবস্থা জারির পর স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা কার্যকর করেছে। উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে ধসে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কার না হলে পুরোদমে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিব্বত হিমালয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। উঁচু পাহাড়ি ভূখণ্ড ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ ধরনের দুর্যোগে এখানে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ হওয়ায় কম্পন ছিল ব্যাপক ও বিধ্বংসী।
প্রাণহানির সংখ্যা এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ এবং আহত ৩২ জন বলে জানানো হলেও উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বদলাতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
এখন সবার দৃষ্টি উদ্ধার তৎপরতার দিকে। সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসহায়তা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, আর নতুন তথ্য এলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।





