কালীগঞ্জে আসামি ধরে ফেরার পথে গাড়িচাপায় বিএনপি নেতা ও পুলিশের এসআই নিহত, আহত দুজন
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আসামি ধরে থানায় ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ির চাপায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক এসআই ও এক কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে।
নিহত বিএনপি নেতার নাম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (৪৮), যিনি রফিক মোল্লা নামে এলাকায় পরিচিত। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তুমলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
নিহত পুলিশ সদস্য হলেন এসআই মো. মিজানুর রহমান। আহত দুজন হলেন এসআই জাবেদ ওমর ও পুলিশ কনস্টেবল মো. রাব্বি। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে কালীগঞ্জের মাধক্ষার বাড়ি এলাকার ওহিদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করতে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। তাঁকে আটক করে দলটি থানার দিকে রওনা হয়।
ফেরার পথে দলটি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমানসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা। ঠিক সেই সময়ই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি।
এ সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত হন সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
পরে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।
এদিকে, পুলিশের অভিযানে আটক ওহিদ মোল্লা দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে অভিযানটি শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে এবং এতে পুলিশের একজন সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন।
ওসি আরও জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভোররাতের এই দুর্ঘটনায় কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। এখন ঘাতক গাড়ি শনাক্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দিকেই নজর সবার।






