অস্ট্রেলিয়ার পতাকা নিয়ে মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার পথে ক্যাথরিন বেনেল-পেগ, ইউরোপীয় সংস্থাকে প্রস্তাব ক্যানবেরার
অস্ট্রেলিয়া সরকার ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ-কে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ নভোচারী ক্যাথরিন বেনেল-পেগ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যেতে পারেন। প্রস্তাবিত এই অভিযান ২০২৮ সালে হতে পারে।
অভিযানটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রথমবারের মতো কোনো যোগ্য নভোচারীর অস্ট্রেলিয়ার পতাকার অধীনে মহাকাশে যাত্রা। এর আগের অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত নভোচারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নাসার অভিযানে গিয়েছিলেন।
বেনেল-পেগ অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশ প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক। তিনি ২০২৪ সালে ইএসএ-র সঙ্গে নভোচারী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
তিনি প্রথম অস্ট্রেলীয় নভোচারী নন, কিন্তু তিনিই প্রথম যিনি অস্ট্রেলিয়ার পতাকার অধীনে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ড. অ্যান্ডি থমাস ও পল স্কালি-পাওয়ার অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নিলেও মার্কিন নাগরিক হিসেবে নাসার অভিযানে মহাকাশে গিয়েছিলেন। এলেইন হাইড, যিনি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক, গত বছর জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন এনএস-৩০-তে উপকক্ষীয় উড্ডয়নে গিয়েছিলেন।
শুক্রবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞানমন্ত্রী টিম এয়ার্স বলেন, মহাকাশ উড্ডয়নের উল্লেখযোগ্য খরচ জোগাতে সরকার বেসরকারি খাত, দাতা ও অন্য স্তরের সরকারের সঙ্গে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, দাতারা ৬০ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সঙ্গে আছে বস্তুগত সহায়তা এবং কয়েকটি রাজ্য সরকারের ইঙ্গিতমূলক সমর্থন। মন্ত্রীর কার্যালয় আগে এই উদ্যোগকে ‘খুব ব্যয়বহুল’ বলে বর্ণনা করেছিল, যা কোনো সরকার একা বহন করতে পারবে না।
মে মাসে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি জানিয়েছিল, তারা ইএসএ-র সঙ্গে ‘চুক্তি-পর্যায়ের আলোচনায়’ প্রবেশ করেছে, যা অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জোরদার সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে।
আগস্টে এয়ার্স ও সহকারী বিজ্ঞানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু চার্লটন রাজ্য ও অঞ্চলের নেতাদের চিঠি দিয়ে অভিযানে অর্থায়নে অংশীদার হতে আহ্বান জানান। ওই চিঠিতে এটিকে ‘সম্পূর্ণ অস্ট্রেলীয় অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যাতে স্থানীয়ভাবে তৈরি পরীক্ষা ও প্রযুক্তি থাকবে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, যেখানে মহাকাশ সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত, প্রকাশ্যে বেনেল-পেগের মহাকাশ যাত্রাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাজ্যের প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস বলেছেন, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এই জাতীয় উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশীদার হতে প্রস্তুত এবং বেনেল-পেগের নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অভিযানের পক্ষে প্রচারে উদ্যোক্তা ডিক স্মিথ ও জিম হোয়ালি প্রত্যেকে ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডও সমর্থন জানিয়েছেন। রাড সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অর্থনৈতিক অর্থ বহন করে।
ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিস বলেছেন, বেনেল-পেগ যোগ্য, তিনি উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং উপযুক্ত অভিযান পেলে তিনি যেতে প্রস্তুত। মহাকাশ সংস্থা জার্মানির কোলনে ইউরোপীয় নভোচারী কেন্দ্রে তাঁর প্রশিক্ষণের জন্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ডলার ব্যয় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ব্যয়ের প্রশ্নও উঠেছে। ডি গ্রিস প্রশ্ন তুলেছেন, প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয়ের অনুপ্রেরণামূলক মূল্য যথেষ্ট কি না, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে ফল তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যভাবেও অনুপ্রেরণামূলক মহাকাশ কাজে যুক্ত—অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি চন্দ্র রোভার ‘রু-ভার’ ২০৩০ সালে নাসার অভিযানে চাঁদে পাঠানো হবে।
স্পেস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার চেয়ার ডারিন লাভেট বলেছেন, প্রায় ১০ কোটি ডলার—প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক অস্ট্রেলীয়র জন্য একটি কফির দামের চেয়েও কম—মহাকাশের টিকিট নয়, এটি এই শতাব্দীর অন্যতম নির্ধারক শিল্পে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের জন্য অগ্রিম বিনিয়োগ। বেনেল-পেগ নিজে এ মাসের শুরুতে এক বক্তৃতায় মহাকাশকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের পুরো ক্ষেত্রে প্রবেশের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।





