ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের ফাঁদে টাকা হাতানোর অভিযোগ, বগুড়ায় মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
বগুড়ায় ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অ্যাপে হিসাব খুলে বড় অঙ্কের টাকা জমা রাখলে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার মনির উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন (৪২), ফুলকোট পশ্চিমপাড়ার দবির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে ওবায়দুর রহমান (৪০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার হাজরাদীঘি উত্তরপাড়ার মৃত আবদুল জব্বার প্রামাণিকের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪১)। পুলিশের দাবি, এই চক্রের মূলহোতা নাজিম উদ্দিন।
মামলা ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব খোলার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিল। এভাবেই প্রথমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এরপরের ধাপে গ্রাহকদের বলা হতো, হিসাবে বড় অঙ্কের টাকা জমা রাখলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকে আরও অর্থ জমা দেন। পুলিশের অভিযোগ, এভাবে সংগ্রহ করা অর্থ অবৈধ ইলেকট্রনিক লেনদেনে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বগুড়া মহানগরীর কলোনী এলাকায় সড়কের পাশে বিশেষ অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। ওই অভিযানেই নাজিম উদ্দিন, ওবায়দুর রহমান ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক অ্যাপ ও জিমেইল আইডি পাওয়া গেছে। এসব ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহার করেই চক্রটি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ ও লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
জব্দ করা চারটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি সিম কার্ড এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত। একাধিক সিম ও অ্যাপ-ভিত্তিক হিসাব ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেনের উৎস আড়াল করার কৌশলই চক্রটি অনুসরণ করছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
ওসি ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা বারবার সামনে আসায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই গ্রেপ্তার একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরিচিত অ্যাপে বড় অঙ্কের টাকা জমা রাখলে লাভের আশ্বাস পেলেই যাচাই না করে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ বারবার দিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এখন মামলার তদন্তে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সিমের লেনদেন-তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং মোট কত অর্থ এভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।





